দর্শনার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের সামনে রেলওয়ের অনুমোদন না নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করছে জেলা পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের সামনে বেশকিছু জায়গা জুড়ে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি স্থানে কংক্রিটের পিলার তুলে ঢালাই বেঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব স্থানগুলো হলো- দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনের সামনে, দর্শনা রেলবাজর বটতলা ও দর্শনা রামনগর মোড়। ফলে জনবহুল এ স্থানগুলো একেবারে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যেখানে ৯-১০টি ভ্যান, রিকশা বা দুই-চারটি জিবগাড়ী রাখার জায়গা থাকছে না। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনের সামনের জায়গার সৌন্দর্য্য হারিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয় দর্শনা স্টেশন ব্যবস্থাপক মির্জা কামরুল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কংক্রিটের পিলার তুলে ঢালাই বেঞ্চ নির্মাণ করছে। রেলওয়ের অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার আসার আগে মৌখিক অনুমোদন নেওয়া আছে বলে ঠিকাদার লিয়ন জানিয়েছেন। তবে রেলওয়ের লিখিত কোনো অনুমোদন আমার কাছে নেই।’
পাঁকশি রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী চাঁদ আহম্মেদের নিকট দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের সামনে স্থাপনা নির্মাণের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেলওয়ের জমিতে কেউ অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। আমি আগামীকাল নির্মাণ কাজ বন্ধ করার ব্যবস্থা নেব।
এদিকে, স্টেশন মাস্টার আশিক আহম্মেদ জানান, ‘শুনেছি মৌখিক অনুমোদন নিয়ে ঢালাই বেঞ্চ নির্মাণ করছে। আমাদের কাছে রেলওয়ের কোনো অনুমোদন নেই। আমি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো।’
জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মনজুর সময় অনুমোদিত এ ঢালাই বেঞ্চ নির্মাণকাজের অনুমোদন দেয় জেলা পরিষদ। এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান মনজুর কাছে জানতে তাকে বারবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আনিছা খানম জানান, দর্শনার ৩টি স্থানে জেলা পরিষদ ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কংক্রিটের পিলার তুলে ঢালাই বেঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। যার ৫% কমিশনে জনৈক ঠিকাদার রিয়েল কাজটি পেয়ে বাস্তবায়ন করছে। তবে রেলওয়ের অনুমোদন ছাড়া রেলওয়ের জায়গায় এ নির্মাণ কাজটি যা আইনগত সমীচিন নয় বলে এলাকাবাসী দাবি করেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন