মাত্র ৫ হাজার টাকা জমা দিলেই সহজ শর্তে এক লাখ টাকা ঋণ ও দুই বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জের মানবিক সাহায্য সংস্থা ‘মহিলা ঋণদান প্রকল্প’ নামে ভুয়া একটি বেসরকারি (এনজিও)। ভুক্তভোগীরা জানান, গতকাল সোমবার ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও শনিবার দুপুরের পর থেকে সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং অফিসে কোনো কর্মী দেখা যাচ্ছে না।
অভিযুক্তরা হলেন, সংস্থার ম্যানেজার হুসাইন, সিনিয়র মাঠ কর্মীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়দের মতে, কয়েকদিন আগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা বেসরকারি সংস্থার পরিচয়ে কার্যক্রম শুরু করে। সংস্থার সাইনবোর্ডে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল, তবে তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এনজিও কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ৫৫০ টাকার বিনিময়ে সদস্য সংগ্রহ করতেন। তাদের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই টাকা জমা দেন। গত কয়েক দিন ধরে কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর, বোয়ালিয়া, যাদুবপুর, শাহাপুর, হাসনহাটি, সরোজগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সমিতি গঠন করে ঋণ প্রদানের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
যদিও গতকাল ঋণ প্রদানের কথা ছিল, তারা দুদিন আগে শনিবার দুপুরে অফিস ফেলে পালিয়ে যান। শিলা নামে একজন কর্মী তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর (০১৯৯৮২৫৭১৯৬) বন্ধ করে দেন। ঋণ পাওয়ার আশায় অনেকেই ধার দেনা করে টাকা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা যাদবপুর গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী রুপালি খাতুন বলেন, ‘আমার কাছ থেকে ৮ হাজার ৫৫০ টাকা নিয়েছে, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে। শুধু আমি না, যাদবপুর গ্রাম থেকে ২০ জন ও হাসনহাটি, ভুলটিয়া, নবীননগরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে পালিয়েছে তারা। এর ফলে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’
সমীকরণ প্রতিবেদন