জীবননগরে আওয়ামী লীগ নেতার নারী কেলেঙ্কারি দেখে ফেলাই দিনমজুরকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিধিকুন্ডু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত দিনমজুর সালাউদ্দিন (৩৬) জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিধিকুন্ড গ্রামের মো. আহাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে নিধিকুন্ডু গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর বাড়ি থেকে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে কয়েকজন লোকজন ছুটে যেয়ে দেখেন নিধিকুন্ডু গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মো. কাইয়ূম খান ঘরের ভেতরে মো. সালাউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে। কেউ ঠেকাতে গেলে তাকেও কোপাতে যাচ্ছে। তবে যখন এলাকার লোকজন সবাই ছুটে আসে, তখন কাইয়ূম খান পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী সালাউদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কাইয়ুম দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের সাথে থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. ফজলু বলেন, ‘চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমি যেয়ে দেখি সালাউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে কাইয়ূম। সে প্রথমে আমাকে দেখে আমাকেও কোপ মারতে আসে। পরে আমি ধমক দেওয়ায় ও আশেপাশের লোকজন ছুটে আসাই তখন সে চলে যায়। তখন সালাউদ্দিনকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
স্থানীয় প্রতিবেশী মো. সুজন বলেন, ‘ওই নারীর বাড়িতে দুজনের অনেকদিন ধরে যাতায়াত আছে। এটা নিয়ে বেশ কয়েকবার ঝামেলা হয়েছে। তবে বুধবার রাতে ঘরে সালাউদ্দিনকে দেখে কাইয়ূম সহ্য করতে না পেরে তাকে মেরে ফেলার জন্য এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে।’ আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা হাকিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘নিধিকুন্ডু গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে, এটা আমি শুনেছি। মূলত নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে ঘটনা ঘটেছে। আহত সালাউদ্দীন খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে জানতে পেরেছি।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, নিধিকুন্ডু গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে, ওই ঘটনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামি ধরার জন্য পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন