চুয়াডাঙ্গায় নারীসংক্রান্ত একটি পূর্ব বিরোধের জেরে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল ইসলাম ইকরাকে (২০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। গতকাল সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে পৌর শহরের কেদরগঞ্জ সিঅ্যান্ডবি পাড়ার বিশ্বাস করাত কলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। জখম ইকরামুল একই এলাকার রবজেলের ছেলে। এদিকে, জখম গুরুতর ও অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল রাতে ইকরামুল তার বন্ধুদের সাথে সিঅ্যান্ডবি পাড়ার শাকের আলীর চায়ের দোকানে বসে ছিলো। এসময় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রনিয়ে ইকরামুলের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এসময় ইকরার বন্ধুরা পালিয়ে যায় এবং ইকরা একা এই হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। তবে হাসপাতালে ইকরার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।
স্থানীয় একাধিক সূত্র আরও জানায়, নারীসংক্রান্ত একটি ঘটনা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ইকরার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক অনেকে বলেন, ‘কিছুদিন পূর্বে মহিলা কলেজপাড়ায় কয়েকজন যুবক একটি মেয়ে আর একটি ছেলেকে আটকে রেখেছিলো। আহত ইকরাসহ আরও কয়েকজন ওই ছেলে-মেয়ে দুজনকে সিঅ্যান্ডবি পাড়াতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মহিলা কলেজপাড়ার একটি ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানা হেফাজতেও নিয়ে যায়। ওই ঘটনার জের ধরে ইকরার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।’ দাবি তাদের।
এদিকে, জখম ইকরামুলের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানূল হক তন্ময় বলেন, ‘তার ফুসফুসে ক্ষতসৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তার মাথা, পিঠ, দুই হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়। জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে অবজার্ভেশনে রাখা হয়। এবং রাতেই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একইসাথে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালালো হচ্ছে।
এদিকে, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান। এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সমীকরণ প্রতিবেদন