হাজার হাজার অতিথি পাখির কলধ্বনিতে মুখরিত মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাইলমারী পদ্মবিল। হেমন্তের শুরুতে জেলার হরিরামপুর, পাটাপোকা, রঘুনাথপুর, চাঁদ বিল, কাজলা বিল, বলিয়ারপুর চিড়িগালা মাঠ, জোড়পুকুরিয়া-তেরাইল মাঠ, মটমুড়া মাথাভাঙা নদী ও বৃহত্তর ধলার মাঠসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে কিছু অতিথি পাখি এলেও মাঠের পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্যে সেগুলো অন্যত্র চলে যায়। তবে মাইলমারী পদ্মবিলে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার অতিথি পাখি। অগ্রহায়ণের শেষের দিকে এ বিলে আরও কয়েক হাজার পাখি যোগ হয়। সব মিলিয়ে হাজার হাজার অতিথি পাখির কোলাহলে মুখরিত এখন মাইলমারী পদ্মবিল।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে মাইলমারী পদ্মবিলে গিয়ে দেখা যায়, অতীতের মতো পানিতে পদ্মফুলের দেখা না মিললেও বিলের ৭০ ভাগ জলাশয় শেওলায় (স্থানীয়ভাবে জার্মানি নামে পরিচিত) পূর্ণ। শেওলা কখনো বিলের পশ্চিম প্রান্তে, কখনো পূর্ব প্রান্তে জড়ো হয়। মাঝেমধ্যে তা খণ্ড খণ্ড আকারেও থাকে। শেওলার মধ্যে রাজহাঁস ও পাতিহাঁসের দল ভেসে বেড়ায়। মাঝে মাঝে ছোট পাখিদেরও দেখা মেলে। রোদেলা দুপুরে স্বচ্ছ পানির ঝিকিমিকি পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পাখির কিচিরমিচিরে বিলের সৌন্দর্য যেন আরও বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর শীত শুরুর আগে এসব অতিথি পাখির দল এ বিলে আসে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা পদ্মবিলে থাকে এবং রাতে আহারের জন্য বিভিন্ন দিকে চলে যায়। ভোর হলেই আবার ফিরে আসে। সারাদিনের অধিকাংশ সময় তারা শেওলার ওপর বসে গোসল, খেলাধুলা ও রোদ পোহাতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে আকাশে দলবেঁধে ওড়ার দৃশ্য এক অনন্য অনুভূতি দেয়।
মাইলমারী, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, তেঁতুলবাড়ীয়া, পলাশীপাড়া, হিন্দা, হিজলবাড়ীয়া, মালসাদহ, গাংনী, নওপাড়া, কালিগাংনী, ভাটপাড়া, সাহারবাটী, করমদী, আজান, যুগিন্দা, বারাদী, আমঝুপি ও আশপাশের এলাকার মানুষ এই দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন। চাকরির সুবাদে যারা অন্য জেলায় থাকেন, তারাও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসেন। বিলের সৌন্দর্য দেখে তারা সেলফি তোলেন এবং কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করেন।
এলাকার প্রবীণরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলসহ দূরদূরান্তের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর এসব পাখি আসে। পুরো শীতকাল এখানে কাটিয়ে গরমে আবার ফিরে যায়। এ এলাকায় পাখি শিকার করা নিষিদ্ধ। মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের কড়া নির্দেশনায় পাখি শিকার বন্ধ রাখা হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন