কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার করে শ্রমিক সংকট নিরসন, সময়ের অপচয়রোধ ও অতিরিক্ত খরচ বাঁচাতে ঝিনাইদহে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্না গ্রামে আধুনিক এই চাষ পদ্ধতির উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল।
সফল হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গাগান্না গ্রামের মাঠে রাইস প্লান্টারের মাধ্যমে জমিতে ধানের চারা রোপণ শুরু করা হয়। সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নূর এ নবী জানান, সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনার আওতায় সাগান্না ও রাজনগর গ্রামের ১১৫ জন কৃষকের ১৫০ বিঘা জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। এই পদ্ধতিতে বীজতলা ও ধানের চারা রোপণে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। ফলে কৃষিতে খুলতে যাচ্ছে এক নতুন দুয়ার।
তিনি জানান, প্রচলিত নিয়মে বীজতলা তৈরি না করে জমি ও সময় অপচয়রোধে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের যুগোপযোগী পদ্ধতি হচ্ছে ‘সমলয়’ চাষ। স্বল্প জমিতে প্লাস্টিকের ফ্রেম বা ট্রেতে বীজতলা তৈরি করা হয়। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা লাগানোর উপযোগী হয়। পরে তা রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে রোপণ করা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২১ সালে দেশে প্রথম সমলয় চাষাবাদ শুরু হয় ঝিনাইদহের হলিধানী ইউনিয়নের গাগান্না গ্রামে। এবার দ্বিতীয় পর্বে একই এলাকায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রাইস প্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
চাষাবাদ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে এসে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠী চন্দ্র রায় জানান, জমির প্রকৃতি, চাষাবাদ পদ্ধতি, দুর্যোগ সম্পর্কে তথ্য ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার না জানার কারণে কৃষক ফসল উৎপাদনে বারবার ক্ষতির মুখে পড়েন। যন্ত্রের মাধ্যমে ধান রোপণ, ধান কাটা ও মাড়াই করার ধারণা কৃষকের মাঝে পৌঁছে দিতে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।
সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ নিয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল বলেন, সরকার সার, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কৃষককে ভর্তুকি দিচ্ছে। কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে। সরকার কৃষি আধুনিকায়নে বদ্ধপরিকর। সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতিতে ধান রোপণ কার্যক্রমের এই অনুষ্ঠান তারই প্রতিচ্ছবি। কৃষকের প্রতি আহ্বান থাকবে, দেশের জন্য মানুষের জন্য সবাই মিলে একসঙ্গে একই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করুন।
এলাকার কৃষকরা জানান, সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষের ফলে তাদের খরচ ও লোকসান কমে গেছে। ফলে চাষে উৎপাদনও বাড়ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাজিয়া আক্তার চৌধুরী, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জুনাইদ হাবীব, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মীর রাকিবুল ইসলাম, হলিধানী ইউনিয়ন উপসহকারী অফিসার মফিজ উদ্দিন, কৃষক মতিউর রহমান মোল্লা ও মতিয়ার রহমান বক্তব্য দেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন