কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের বগুলাপাড়ার কৃষক শফিকুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। ৫০০ শতক জমিতে চাষকৃত গোলাপ ফুল বিক্রি করে মাসে খরচ বাদে তিনি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। সরেজমিনে শফিকুলের গোলাপ বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বিছানাপদ্ধতিতে দুই সারিতে লাগানো প্রতিটি গাছ থেকে একাধিক ফুল ফুটেছে। পুরো বাগানে হলুদ এবং পিংক রঙের গোলাপের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে।
শফিকুল বলেন, ‘স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের পরামর্শে ইন্ডিয়া থেকে হলুদ এবং পিংক রঙের গোলাপ গাছের কাটিং এনে চাষ শুরু করি। চাষের ৬ মাসের মাথায় প্রতিটি গাছ থেকে ফুল পাওয়া শুরু হয়। প্রতিটি ফুল পাইকারি দরে ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করছি। দুই দিন পরপর ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ফুল সংগ্রহ করা হয়, যা বিক্রির পর মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।’ তিনি জানান, ৫০ শতক জমিতে গোলাপ চাষ করতে তার প্রাথমিক খরচ হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এদিকে, শফিকুল ইসলামের সফলতায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও গোলাপ চাষে আগ্রহ বেড়েছে।
বেগমপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শফিকুল ইসলামের আগ্রহ দেখে আমরা তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছি। গোলাপ চাষ একটি লাভজনক খাত। শফিকুলের বাগান থেকে আগামী ৩ বছর পর্যন্ত ফুল সংগ্রহ করা যাবে। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাভ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলায় কেউ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করতে চাইলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করব।’
দর্শনা থেকে ফুল বাগান ঘুরতে আসেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি ফুল চাষিদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ এবং সহায়তা প্রদান করে, তবে গোলাপ চাষ বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারিত হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন