রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে রাতের আধারে ফসলের সাথে শত্রুতা

  • আপলোড তারিখঃ ২০-১২-২০২৪ ইং
ঝিনাইদহে রাতের আধারে ফসলের সাথে শত্রুতা

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের মাঠে বেনজির আহমেদ শিলুর ২৫০টি কলার কাঁদি, দুই শতক ভুট্টাগাছ ও প্রতিবেশী টুলুর ৬ শতক জমির পানগাছের লাতা কেটে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। কৃষক বেনজির আহমেদ শিলু ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের হেলাল মালিতার ছেলে ও টুলু একাই গ্রামের আজিম উদ্দীনের ছেলে। তাদের দুজনের দাবি, গ্রামের কিছু মানুষের সাথে তাদের পূর্বের শত্রুতা। প্রকাশ্যে তাদের কোনো ক্ষতি করতে না পেরে রাতের আধারে ফসলের এমন ক্ষতি করা হয়েছে।

প্রতিবেশী কৃষক কামরুল জানান, একই মাঠে তার কলা ও ভূট্টার চাষ আছে। সকালে মাঠে এসে দেখেন শিলুর কলাগাছ থেকে কলা কেটে মাটিতে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। কলা খেতের পাশেই ভুট্টা খেত সেখানেও দুই শতক জমির ভূট্টা গাছ কেটে রেখে গেছে। এই মাঠের সব কৃষকেরা অসহায়, সবাই নিরাপত্তাহীনতা ভুগছে। যারা এই কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।

পান চাষি টুলু বলেন, এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এই পান বরজ দিয়েছি। প্রথম বছরেই পানের আবাদ ভালো হয়েছে। এই পানের উপর এখন সংসার এবং এনজিও কিস্তির টাকা আসে। সকালে বরজে কাজ করতে এসে দেখি পান গাছের গোড়া থেকে সব লতা এক ফুট, দুই ফুট করে কাটা। গ্রামের কিছু মানুষের সাথে আমাদের ঝামেলা আছে। আমাদের ধারণা হয়তো তারা প্রকাশ্যে কোন ক্ষতি করতে না পেরে, রাতের আধারে পানের গাছ কেটে দিয়ে গেছে। আমরা চাই তদন্ত করে আসল দোষীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

``

কলা চাষি বেনজির আহমেদ শিলু জানান, ৭টি কলা বিক্রয় উপযোগী হওয়ায় গতকাল প্রতিপিচ ২৭০ টাকা দরে বিক্রয় করেছি। সকালে ব্যাপারির কলা কাটতে আসার কথা, এজন্য আমি আসছি কলা দেখতে যেন অপরিপক্ব কলা যেন না কাটে। বাগানে আসতেই দেখি, গাছ থেকে কলা কেটে কে বা কারা মাটিতে ফেলে রেখে গেছে। প্রতিটি গাছের মাথা থেকে কলা কাধিসহ কেটে ফেলে রাখা। আবার পাশেই ভূট্টা ক্ষেত সেখানেও দুই শতক জমির ভূট্টা গাছ কাটা। আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে গ্রামের কিছু মানুষের বিরোধ আছে। কিছুদিন আগেও তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তারা বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমাদের ধারণা তারাই শত্রুতা করে কলা ও ভূট্টা গাছ কেটে দিয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নূর-এ-নবী বলেন, রাধাকান্তপুর গ্রামে দুজন কৃষক, শিলু ও টুলু। কৃষক শিলুর দেড় বিঘা জমির ফলন্ত কলা গাছ না কেটে দুর্বৃত্তরা কলার কাধি কেটে ফেলে রেখে গেছে, যেটা অপরিপক্ব। বাজারে বিক্রয় করার কোনো সুযোগ নেই। উনার ৪০০ কলা গাছের মধ্যে ২৫০টি গাছের কলা কেটে নিচে ফেলেছে এবং বাকি অর্ধেক নষ্ট করে রেখে গেছে। অপর পান চাষি টুলুর ৬ কাঠা জমির পান বরজের মধ্যে ৩ কাঠা পানের লতা কেটে দিয়েছে। দুইজন কৃষক ভাইয়েরই অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমাদের কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সাথে কথা বলে তাদের যদি কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় সেটাও চেষ্টা করা হবে।



কমেন্ট বক্স