রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-১২-২০২৪ ইং
মা ও ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কৃষকের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আব্দুস সালাম বলেন, ‘জমি-জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে একের পর এক মামলা করেছে। সম্প্রতি আমরা একটি মামলা আদালতে করি। এতে প্রতিপক্ষরা আমাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৭টার সময় শীতে বাড়ির সবাই কাঁথা-কাপড়ের মধ্যে শুয়েছিলাম। এই অবস্থায় আমাদের গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে মনির হোসেন, ইমরান হোসেন, এনামুল হক, শরিফুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেনের ছেলে আকরাম, আকরাম হোসেনের ছেলে ইকবাল হোসেন, ইকলাস হোসেন, ইমদাদ হোসেন, আব্দুল জব্বারের ছেলে কোরবান হোসেন, কোরবান হোসেনের ছেলে জীবন হোসেন, আফাজ উদ্দিনের ছেলে জহির উদ্দিন, হাবিবুল, মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে সরোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেন, মৃত কিয়াম উদ্দিনের লিয়াকত হোসেন, শওকত আলী, হযরত আলী, সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহমানের ছেলে সাদেক হোসেন, সাব্বির হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জন হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার রড, শাবল, দা, হাসুয়া নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। তারা বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র, ফ্রিজ, দুটি পাখিভ্যান, শ্যালো মেশিন, টিভি ভাঙচুরসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তারা আমার বাবার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পর আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে একইভাবে ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মা আনোয়ারা বেগম কাকুতি মিনতি করে হামলাকারীদের বাঁধা দিলে আকরাম হোসেন আমার মায়ের মাথায় কোপ দিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। এসময় আমার ছোট ভাই আবুল কালামের মাথায় মনির হোসেন কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। আমার বৃদ্ধা বাবা শহিদুলকেও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। মনির হোসেনের নেতৃত্বে তারা আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। মনিরের অত্যাচারে আমরা রীতিমতো অতিষ্ঠ।’
এ বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ফজরের নামাজ শেষে পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ ৪০-৫০ মানুষ সালামের বাবা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। তাদের আমি প্রতিহত করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার পক্ষে শেষ পর্যন্ত তাদের থামানো সম্ভব হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়েই করা হচ্ছে। তারা সব ঘটনায় আমাকে আসামি করে কিংবা করার চেষ্টা করে থাকে।’
আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার মফিজুল ইসলাম মাফি বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে ১৫-২০ বছর ধরে জমি জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে কোনো না কোন ঘটনা ঘটেই থাকে। উভয়পক্ষ নিকটতম আত্মীয়-স্বজন। একইভাবে বুধবার সকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, ঘটনার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



কমেন্ট বক্স