চুয়াডাঙ্গা শহরের কালু হোটেলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলবাজার এলাকায় অভিযান চালায় জেলা টাস্কফোর্স কমিটি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান মালিককে জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
এসময় সজল আহম্মেদ বলেন, রোববার দুপুরে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মেসার্স কালু হোটেল নামক প্রতিষ্ঠানে পূর্বে সতর্ক করা সত্ত্বেও তদারকিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। হোটেলের স্যানিটারি লাইসেন্স না থাকা, কর্মচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ না থাকা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানা, নোংরা জিনিসের পাশে রেডি খাবার উন্মুক্ত রাখা পাওয়া যায়।
এছাড়া কর্মচারীরা টয়লেট শেষে হাত না ধুয়েই খাবার তৈরি করছেন। যত্রতত্র নোংরা ও মাছিতে ভরপুর মেঝেতে রান্না করা ও বিভিন্ন রেডি খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকরভাবে খাবার পণ্য তৈরি, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শহিদুল ইসলাম কালুকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এসময় পুনরায় তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার তৈরির বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এসময় সব ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয় এবং সবাইকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, ভাউচার সংরক্ষণ ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে বলা হয়। সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে সহযোগিতায় ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজিব পাল, চুয়াডাঙ্গা ছাত্র প্রতিনিধি মুশফিকুর রহিম, ক্যাব প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ওয়ারেন্ট অফিসার মাসুদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস টিম। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান সজল আহম্মেদ।
সমীকরণ প্রতিবেদন