সোমবার, ১৭ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মুজিবনগরে মাদ্রাসা শিক্ষকের পিটুনিতে ৬ শিশু হাসপাতালে

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-১১-২০২৪ ইং
মুজিবনগরে মাদ্রাসা শিক্ষকের পিটুনিতে ৬ শিশু হাসপাতালে

মেহেরপুরের মুজিবনগরের ভবেরপাড়া গ্রামের ফরিদনগর `ইয়া রসুলুল্লাহ` (স.) হাফিজিয়া মাদ্রাসার ৬ শিশু ছাত্রকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছেন এক শিক্ষক। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই ছাত্রদের হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে গতকাল বুধবার সকালে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে।
আহতরা শিশুরা হলো- মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের খোকা আলীর ছেলে মিরাজ উদ্দীন (১২), একই গ্রামের বোরহান উদ্দীনের ছেলে রকিবুল ইসলাম (১২), সোনাপুর গ্রামের সোহরব উদ্দীনের ছেলে সালমান সাকি (১১), একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরাফাত (১১) এবং রিয়াদ হোসেন (১৪) ও আরিফুল ইসলামের ছেলে আরমান আলী (৯)।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে এক শিশু ছাত্র ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানায় প্রস্রাব করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে ছাত্রদের পেটাতে থাকেন প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা ফাহাদ শেখ। শিশুদের কান্নাকাটি শুনে এগিয়ে আসে আশপাশের মানুষ। তারা শিক্ষকের মারধরের বিষয়টি প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশে খবর দেয়। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় শিক্ষককে। পুলিশ রাতেই শিশুদের উদ্ধার করে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
স্থানীয়রা জানায়, নিজেদের মন মতো পরিচালনা করেন ফরিদনগর `ইয়া রসুলুল্লাহ` (স.) হাফিজিয়া মাদ্রাসা অ্যান্ড কলেজের নেছা আদর্শ নুরানি শিশু ইবতেদায়ীর প্রধান শিক্ষক ও তার ভাই। কোনো কমিটি বা স্থানীয়দের কোনো তোয়াক্কা করে না প্রতিষ্ঠান প্রধান হাফেজ মাওলানা ফাহাদ শেখ। প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও হেফজ ও ইবতেদায়ী শাখায় মোট শিক্ষার্থী ৯০-৯৫ জন। এর মধ্যে ১৫ জন শিক্ষার্থী হেফজ পড়ার জন্য আবাসিক থাকে। আবাসিকের পরিবেশও খুব একটা স্বাস্থ্যকর না।

অভিভাবকরা বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের হেফজখানায় পড়ার জন্য আবাসিকে রেখেছিলাম। ছোট মানুষ ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব করেছে তার জন্য এভাবে জানোয়ারের মতো মেরে জখম করেছে, এটা কী ধরনের শিক্ষা। আমরা এই প্রতিষ্ঠানে আর সন্তান রাখবো না।’

মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষকসহ অধিকাংশ অভিভাবক এসে প্রথমবার এমন অপরাধ করার ফলে পরবর্তীতে এমন কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আকস্মিক মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী