বিচারবহির্ভুত হত্যাকা-ের অভিযোগে ঝিনাইদহের সাবেক চাকরিচ্যুত পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ও দুই এসআইসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কোটচাঁদপুর আমলি আদালতে মামলাটি করেন বলাবাড়িয়া গ্রামের শওকত আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম। ২০১৪ সালে তার চাচা জামায়াত নেতা ও এলাঙ্গী ইউনিয়নের মেম্বার আবুল কালাম আজাদকে অপহরণের পর পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মর্মে অভিযোগ।
মামলায় আসামি পুলিশের দুই কর্মকর্তা হলেন- কোটচাঁদপুর থানার সাবেক এসআই মিজানুর রহমান ও ঝিনাইদহ সদরের বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শিবু দত্ত। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল কোটচাঁদপুর উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে নিয়ে যায় পুলিশ। অপহরণের পর একটি নীল রঙের মাইক্রোবাসে করে প্রথমে কোটচাঁদপুরের গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জনতা ভিড় জমালে আবুল কালামকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আনা হয়। অপহরণের তিন দিন পর ওই বছরের ২১ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের মামুশিয়া গ্রামের বকুল মোড়ে।
বাদীর অভিযোগ, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ও কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খানের হুকুমে দুই এসআই ও কোটচাঁদপুর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় ক্যাডারদের যোগসাজশে জনপ্রিয় ইউপি সদস্য আবুল কালামকে হত্যা করে পুলিশ। অ্যাডভোকেট রুস্তম আলী আদালতে বাদীর পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোটচাঁদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন