রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ছবি তোলায় যার নেশা

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০৯-২০২৪ ইং
ছবি তোলায় যার নেশা


জীবননগর বাজারের স্টুডিও ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম পশু-পাখিদের ছবি তুলতে কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। ব্যবসার পাশাপাশি ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি তার নেশা। জহুরুল ইসলাম জীবননগর পৌর এলাকর বসতিপাড়ার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। এছাড়াও তিনি জাতীয় দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকার জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। তার এই পথচলা, স্বপ্ন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছবি তোলা ও লেখালেখি করা আমার নেশা। ঘুড়ে বেড়ানো, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা থেকেই ছবি তোলা শুরু করা। প্রকৃতি, ফুল ও পশুপাখিদের ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে অন্যরকম আনন্দ অনুভব করি।’

তিনি বলেন, ‘ছোট বেলা থেকে ছবির প্রতি আকৃষ্টতা তৈরি হয়। বাবা বিভিন্ন পত্রিকা পড়তেন, পত্রিকার ভালো ছবিগুলো কেটে কেটে বইয়ের ভেতর রেখে দেওয়ার অভ্যাসও ছিল। এরপর বাজারে যখন ভিউকার্ড বিক্রি শুরু হলো, তখন সুন্দর সুন্দর প্রকৃতির ছবি, পাখির ছবি, ফুলের ছবিগুলো কিনতাম। তখন থেকেই ভাবনা হতো সুন্দর সুন্দর পাখির এতো ক্লোজ ছবি কীভাবে তোলা হয়, আমিও যদি এমন ছবি তুলতে পারতাম। আমি তখন খুব ছোট। আমার মামার স্টুডিও ছিল। সেখানে মাঝে মাঝে যাওয়া হতো। এরপর ১৯৮৯ সালের দিকে আমার বড় ভাই স্টুডিও ব্যবসা শুরু করে। সবেমাত্র সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি তখন। যখন অষ্টম শ্রেণিতে উঠলাম তখন থেকে বড় ভাইয়ের দুপুরের খাবার আনার জন্য তার স্টুডিওতে যাওয়া শুরু করি। ছবির প্রতি আগ্রহ আমাকে সাদাকালো ছবির ফিল্ম ধোয়াতেও আনন্দ দিয়েছে।

সময়ের পরিবর্তনে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্টুডিও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। কলেজ জীবনে প্রকৃতির আরও কাছে যাওযার সুযোগ হয় আমার। ১৯৯০ সালের দিক থেকে বিভিন্ন সাংবাদিকদের নিউজের ছবি সরবরহও করেছি। সেসময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক বড় ভাইয়েদের নিউজের জন্য সংশ্লিষ্ট ছবি তোলা শুরু হয়। এক সময় প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে জড়িয়েও পড়ি। যেখানে ঘটনা সেখানেই আমার পদচারণা শুরু হয়। দেখতে দেখতে পেশা আর নেশার ফটোগ্রাফিটা চলে ২০১০ সাল পর্যন্ত। এরপর আমার পেশা পরিবর্তন। মাঝে বেশ কিছুদিন ক্যামেরার সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, তবে মোবাইল ফটোগ্রাফির মাধ্যমেই নেশা আকড়ে থাকা।
২০২২ সালে আমার সহধর্মীনি একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা উপহার দেয়। এরপরই নতুন করে নিজেকে ছবির জগতে ফিরে পাওয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ক্যামেরার সঙ্গে সক্ষতা গড়ে ওঠে, ছবির নেশার তাগিদে বেশ কয়েকটি ক্যামেরাও কিনেছি। যা মূলত আমার শখেরই একটি অংশ। কোনো প্রতিযোগিতায় সেভাবে অংশ না নিলেও ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে তা সকলের মধ্যে উপস্থাপন করাও আমার ভলোলাগার একটি অংশ হয়ে ওঠে। বন্ধুরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। ছবি তোলার জন্য সুপার টেলিফটো লেন্সের প্রয়োজন পূরণ করে বন্ধু কুতুব উদ্দীন বাবু। ইউএসএ থেকে সিগমার ১৫০-৬০০ মিমি জুম লেন্স এনে উপহার দিয়েছিল আমাকে। যা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। এরই মধ্যে ওয়াইল্ড লাইফের ভুবনে পা রাখা।



কমেন্ট বক্স