চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মন্দির উচ্ছেদ করে জমি দখলের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গ্রামবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে দেয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাবি, সরকার পতন হওয়ার পরও এদের অত্যাচার থেমে নেই। মন্দিরে চলছে আসন্ন শারদীয় দুর্গা উৎসবের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। এর মধ্যে নতুন করে হুমকি তাদেরকে শঙ্কিত করেছে।
অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, ১৪০৯ বঙ্গাব্দে বারোয়ারী দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয় বারোয়ারী দুর্গাপূজার মাধ্যমে। এছাড়াও একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে সরস্বতী পূজা উদ্যাপন হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে আমরা মন্দির রক্ষা এবং আসন্ন দুর্গাপূজা উদ্যাপন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। ১৪০৯ বঙ্গাব্দে ৬৩ নম্বর আড়িয়া, সরোজগঞ্জ নিবাসী অনিতা বালা সাধুখার ৪ শতক জমির অর্ধেক অংশে মন্দির স্থাপনের অনুমতি নিয়ে পূজা শুরু করা হয়। কিন্তু প্রায় ১২ বছর পর অনিতা সাধুখাঁ জানতে পারেন যে, তার জমির পরিবর্তে তাকে অন্যত্র একটি জমির দলিল করে দেওয়া হয়েছে, যার মালিকানা অন্য ব্যক্তির নামে। এরপর থেকে মরহুম সুলতান মন্ডলের ছোট ছেলে আলুকদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান (হাবলু) জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন। তিনি মন্দির কমিটি এবং গ্রামবাসীর নামে মামলা করার হুমকি এবং বিচ্ছিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখাতে শুরু করেছেন। যা বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ইউপি মেম্বার আব্দুর রহমান হাবলুর ভাগ্নে মো. শিপন তার নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মন্দির দখল করা হচ্ছে মর্মে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে আব্দুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। শিপন আলীর মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
বারোয়ারী দুর্গা মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ অঞ্জন সাহা আবির বলেন, আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। আমরা ভয়-ভীতির কারণে এখন শঙ্কিত। এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন