দামুড়হুদায় এক প্রতিবন্ধী মেয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক স্বামীকে তালাক দেওয়া, লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে অমানসিক নির্যাতন এবং চোখের মনি নষ্ট করার অপচেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে পরিবারের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার এ ঘটনায় ওই নারী নিজ পিতা, দুই ভাই ও ভাবিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর গ্রামের চাঁন মল্লিকের মেয়ে সুলতানা খাতুন (৩৫) তার পিতা, আপন দুই ভাই ও দুই ভাবীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন। সুলতানা খাতুন স্পষ্টভাবে কথা বলতে অক্ষম। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দুই বছর পূর্বে তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের মসজিদপাড়ার মৃত শেখ আলতাব হোসেনের ছেলে শেখ মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিবাহ করেন। কিন্তু তার পরিবার তার স্বামী শেখ মনোয়ার হোসেনকে মেনে নিতে পারেনি এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে জোরপূর্বক তালাক দিতে বাধ্য করে। এরপর তাকে শিকলে আটকে রেখে নির্যাতনও চালিয়েছে ভাই ও ভাবীরা। পরবর্তীতে তিনি আবার শেখ মনোয়ারের সঙ্গে বিবাহ করেন এবং এখন একসঙ্গে বসবাস করছেন।
সুলতানা খাতুন বলেন, ‘আমার পরিবারের সবাই এখনো আমাদের মেনে নেয়নি। বাড়িতে গেলে আমাকে নির্যাতন ও মারধরের হুমকি দেয়া হয়। শুক্রবারও বাড়িতে গেলে আমাকে মারধর করে। আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রির কথা বললে পরিবারের সদস্যরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এর আগে তারা আমাকে শিকলে বেঁধে রাখে এবং চোখের মনি নষ্ট করারও চেষ্টা করেছে। তারা আমার ও আমার স্বামীর ক্ষতি করতে পারে, তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন