দর্শনায় বিএনপি, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে পৃথক আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটায় বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পৃথক দুটি আনন্দ মিছিল করে। দর্শনা পুরাতন বাজারের দোয়েল চত্বর থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তা মোড়ে শেষ হয়। এ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান বুলেট, নেতৃত্ব দেন দর্শনা থানা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাজা আবুল হাসনাত, দর্শনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম ও থানা যুবদলে যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার হোসেন।

মিছিল শেষে বক্তব্যে নেতারা বলেন, স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়ে আমরা খুশি হয়ে এ আনন্দ মিছিল করছি। সেই সাথে দীর্ঘদিন আমাদের আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি করতে পেরেছি। আগামীতে যাতে কোনো স্বৈরাচার ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকব। এছাড়া দেশে জ্বালাও-পোড়াও থেকে আমরা দূরে থাকব। কেউ যদি এ জ¦ালাও-পোড়াও এর সাথে যুক্ত হয় তার দায়ভার বিএনপি নেবে না সতর্ক করা হয়। সমাবেশ পরিচালনা করেন নাহারুল ইসলাম।

এদিকে একই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে দর্শনা কলেজ শহিদ মিনার থেকে দেশ গঠনের শপথ নিয়ে একটি আনন্দ মিছিল করা হয়। মিছিলটি দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এ আনন্দ মিছিলে নেতৃত্ব দেন আবিদ হাসান রিফাত, সাদনান সাকিব ও অনিক। এরপর তারা দর্শনা মুক্তমঞ্চে গিয়ে সকল ছাত্রদের প্রতি জ্বালাও-পোড়াও না করার আহ্বান জানান।

এদিকে বেলা ১১টায় দর্শনা থানা জামায়াতের উদ্যোগে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলের শুরুতেই দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে শুকরানা নামাজ ও দেশ জাতির কল্যাণে ও শহিদদের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এরপর দর্শনা বাসস্ট্যান্ড থেকে আনন্দ মিছিল নিয়ে দর্শনা আকাশ টাওয়ারের সামনে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে এসে শেষ হয়। এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির বলেন, বাংলাদেশটিকে স্বৈরাচারের হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছি। এবার বাংলাদেশটি সাজিয়ে দিতে চাই। এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। স্বৈরাচার সরকার কর্তৃক জামায়াত নেতাদের ফাঁসির বদলা নেব।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময় আনন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছে, তাদের প্রতিটি ফোটা রক্তের বিচার করব আমরা। এছাড়া জ্বালাও-পোড়াও থেকে নেতা-কর্মীদের বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছে, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন নায়েবে আমির ও দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, দর্শনা থানা আমির রেজাউল করিম, উপজেলা আমির নায়েব আলী, মাও. আবু জাফর গেফারী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্শনা সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুকু।
সমীকরণ প্রতিবেদন