দামুড়হুদা উপজেলার দামুড়হুদা ওয়াদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অদূরে মহাসড়ক ঘেঁষে তৈরি হয়েছে ময়লার স্তূপ। এই ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পথচারী, কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ আশেপাশের মানুষ। ময়লার স্তূপের পলিথিন ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ পাশের ফসলের জমিতে পড়ছে, যা নিয়ে কৃষকের মাঝে চাপা ক্ষোভ জমা হচ্ছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী পথচারী মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে ময়লার স্তূপ দেখছি। দিনকে দিন এটি বড় হচ্ছে। এখান থেকে দুর্বিষহ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বর্ষাকাল হওয়াতে এটার প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে আমাদের চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই ময়লার স্তূপ অপসারণ চাই।
এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা নিয়মিত কলেজে আসি। এই ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে মাস্ক পরে আসলেও আমরা দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাচ্ছি না। এজন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি এটি যেন দ্রুত এখান থেকে অপসারণের ব্যবস্থা করে এবং যারা এই ময়লার স্তূপ তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তারা যে পরবর্তীতে এখানে ময়লা ফেলার সাহস না দেখায়।
দামুড়হদার স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার প্রতিদিন এখান দিয়ে মিলে যেতে হয়। যাওয়ার সময় ময়লার স্তুপের কারণে নাকে দুর্গন্ধ আসে। যাতায়াতে খুবই সমস্যা হয়। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশেই দামুড়হুদা ওয়াদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ। তারা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতাযাত করে। তাদের এই ময়লার স্তূপের সামনে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে তারা স্বাস্থ্যগত সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সুতরাং প্রশাসনের উচিত এটি দ্রুত অপসারণ করা।
তিনি আরও বলেন, এই ময়লার স্তূপ তৈরি করছে মূলত গরু, ছাগল জবাইকারী কসাইরা। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
দামুড়হুদা ওয়াদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে ব্যক্তিগত কাজে আসা একজন পথচারী ইকরামুল বলেন, দামুড়হুদা ডিগ্রি কলেজে আসার সময় দেখতে পেলাম কলেজের প্রায় ৫০ গজ দূরে ময়লার স্তূপ। সেখানে কুকুরসহ অন্যান্য পশু খাবার খুঁজতে যেয়ে ময়লার স্তূপটি ঘুটাচ্ছে এবং বিভিন্ন কাগজ ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাহলে মনে হয় সাধারণ পথচারী, কলেজ শিক্ষার্থীসহ সবাই এই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাবে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ থেকে আমরা সবাই বাঁচতে পারব।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা এটির সমাধান করবে বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছে। তবে আমি এ বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলব, যেহেতু আমাদের এখান দিয়ে প্রতিনিয়ত আসতে হয়। যে কারণে শিক্ষক ছাত্র সবারই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে।
মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ সম্পর্কে দামুড়হুদা উপজেলার নির্বাহী অফিসার রোকসানা মিতা বলেন, ওখানে ময়লার স্তূপ আছে আমি জানি, কিন্তু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে না পারায় ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে যে বা যারা এখানে ময়লা ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিব। আপনারা আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।
সমীকরণ প্রতিবেদন