চুয়াডাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে মিম খাতুন (২০) নামে এক কলেজছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের সিনেমা হলপাড়ার কাঠপট্টি এলাকায় নানার বাড়িতে নিজ ঘরে ওঁড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত মিম খাতুন দামুড়হুদা উপজেলার খলিসাগাড়ি গ্রামের মনিরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিতা-মাতার মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে মিম তার মা ও ছোট ভাই-বোনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের সিনেমা হলপাড়ার কাঠপট্টি এলাকায় নানার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তার পিতা ও মাতা সম্পা খাতুনের মধ্যে সমঝোতা হলে তাদের দামুড়হুদায় নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা চলছিল। গতকাল মা ও ভাই বোনদের সঙ্গে দামুড়হুদায় ফিরে যাওয়া নিয়ে মিমের মনোমালিন্য হয়। এরই জেরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মিমের ছোট মামা বলেন, ‘সকালে নিজ ঘরে পোশাক পরিবর্তন করার কথা বলে ছোট ভাইকে ঘর থেকে বের করেন দেয় মিম। কিন্তু বেশকিছু সময় পার হলেও মিমের কোনো শাড়া না পেয়ে ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকালে মিমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখাতে পাই। এসময় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন বলেন, জরুরি বিভাগে তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে নেয়ার পূর্বে তার মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি গলায় ফাঁস দেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন