চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সারা বছর ধান উৎপন্ন হচ্ছে। চলতি বোরো মৌসুম শেষ হতে না হতেই মাঠে আউস ধান লাগানোর ধুম পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ বছর ১০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৯৫২ হেক্টর বেশি। গত বছর ৮ হাজার ৬৪৮ হেক্টর জমিতে আউস ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এর চেয়ে বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, এবারের আউস মৌসুমে ১০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হবে। বোরো মৌসুমেও দামুড়হুদায় বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সাফল্যের সাথে ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। প্রতি বিঘায় ২৬-২৭ মণ হারে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। গেল বোরো মৌসুমে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদিত হয়। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক এবং সেচ খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় আউস ধান চাষে ১১ হাজার ৯৮০ টাকা খরচ হচ্ছে। ধান কাটা এবং মাড়াইয়ের খরচও আছে। যদি সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে সহায়তা করত, তাহলে তারা আরও উৎসাহিত হতো। কথা হয় মদনা গ্রামের কৃষক সালেকিন, আবুল হোসেন, আব্দুর রহিম, পরানপুর গ্রামের লালু মিয়া, নজির হোসেন এবং আশরাফুল হকের সঙ্গে। তারা জানান, সরকারি সহায়তা পেলে ধান উৎপাদনে তারা আরো বেশি মনোযোগী হতে পারতেন। তবে এখন দামুড়হুদা উপজেলায় সারা বছরজুড়ে ধান চাষ হচ্ছে, যা কৃষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন