আদালতের আদেশ অমান্য করে ভীতি দেখিয়ে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার আশানন্দপুর গ্রামের বদর উদ্দীনের ছেলে আজিতের বিরুদ্ধে। এতে করে আদালতের Staus-quo আদেশ অমান্য করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। অপর দিকে, শক্তিতে পেরে না দিয়ে আশানন্দপুর গ্রামের মৃত সমসের মণ্ডলের ছেলে সুলতান ফকির ও তার স্ত্রী ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। মামলার নথি নিয়ে তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে।
জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আশানন্দপুর গ্রামের মৃত সমসের মণ্ডলের ছেলে সুলতান ফকির বিজ্ঞ চুয়াডাঙ্গা সদর সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। তার নম্বর ২৩৭, ২০২৩। মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে চলমান। এর মধ্যে বাড়ি নির্মাণের পাঁয়তারা শুরু করলে সুলতান ফকির বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চুয়াডাঙ্গায় নালিশী জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নিষেধ আদেশ পাওয়ার আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত আবেদনের প্রেক্ষিতে Staus-quo জারি করলে গত ২২ মার্চ কুতুবপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ফরিদুল ইসলাম বাদী আশানন্দপুর গ্রামের মৃত সমসের মণ্ডলের ছেলে সুলতান ফকির ও বিবাদী একই গ্রামের বদর উদ্দীনের ছেলে আজিত, আজাদ আলীর ছেলে আমিরুল, আমিরুলের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন ও আমোদ আলী মালিতার ছেলে বল্টুকে সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার কুতুবপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ফরিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২২ মার্চের সতর্কীকরণ নোটিশে বলা হয়েছে, ‘বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চুয়াডাঙ্গা হতে উভয় পক্ষের মধ্যে নালিশী জমিজমা সংক্রান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিবস্থা (Staus-quo) বজায় রাখার আদেশ হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের Staus-quo আদেশ অমান্য করে ২য় পক্ষ নির্মাণকাজ করায় বিজ্ঞ আদালত ২য়পক্ষকে Staus-quo আদেশ মান্য করে নালিশী জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এমতবস্থায় জমিতে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষকে Staus-quo আদেশ মান্য করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নিজ নিজ দখল অনুযায়ী স্ব স্ব অবস্থানে অবস্থান করার জন্য আপনাদের উভয় পক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। নোটিশ জারির পর হতে কোন পক্ষ শান্তি-শৃঙ্খলা অঙ্গ বা বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করার অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে বাদী সুলতান ফকিরের স্ত্রী আনুরা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়। দেশীয় অস্ত্র দেখানো হচ্ছে। তারা আদালতের আদেশও মানছেন না। আমরা অনেক কষ্টে আছি। তারা টাকার গরম দেখায়, গরিব মানুষের সত্য জিনিসটা কেউ দেখছে না। আমরা আদালতের আদেশের সঠিক বাস্তবায়ন চাই। তবে ক্ষমতার জোর দেখানো হচ্ছে আমাদের। আমার স্বামী ও আমি পাগলের মতো অসহায়ের মতো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু আমাদের হুমকি দিচ্ছে আমিরুল, বল্টু, লাল্টু, মিনা মালিতাসহ কয়েকজন।
বিবাদী আমোদ আলী মালিতার ছেলে বল্টু বলেন, ‘আমরা থানার ওসি ও চেয়ারম্যানের কথা শুনেই নির্মাণ কাজ করছি।’ চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেকেন্দার আলী বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী সতর্কীকরণ নোটিশ দেয়া হয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন