ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কৃষক আবু বকর হত্যা মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৩ আসামির ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গতকাল রোববার বিকেলে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. বাহাউদ্দিন আহম্মেদ এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত আত্তাব আলীর ছেলে আক্কাচ আলী, আব্দুল বারীর ছেলে হাসিবুল ইসলাম, মৃত আবুল হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম, মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে ইউনুচ আলী, আলী মন্ডলের ছেলে কাশেম মিয়া, মৃত জনাব আলী মন্ডলের ছেলে মতিয়ার রহমান, মৃত ইলামদ্দি মন্ডলের ছেলে ইয়াকুব আলী ও মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সোলাইমান হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৭ মে হরিণাকুণ্ডুু উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওই গ্রামে কৃষক হাফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। হাফিজুরকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন কৃষক আবু বকর। এসময় তাকেও জখম করেন আসামিরা। তাদের দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডুু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কৃষক হাফিজুর রহমান ও আবু বকরের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু বকর মারা যান। এ ঘটনায় ২১ মে নিহতের ভাই আবু তালেব বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল রোববার মামলার আসামি আক্কাচ আলী, হাসিবুল, রবিউল ইসলাম, ইউনুস আলী ও কাশেমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মতিয়ার রহমান, ইয়াকুব আলী, সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। দণ্ডিতদের মধ্যে হাসিবুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন