মেহেরপুরের গাংনী পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ করেছে গাংনী পৌর কর্তৃপক্ষ। যার প্রমাণ মিলেছে গাংনী সাপ্তাহিক হাট ফুটবল মাঠে স্থানান্তরে বাধা দেয়ার মধ্যদিয়ে। এলাকার স্বার্থে ফুটবল মাঠ সংস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের অবদান থাকলেও গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান ঠিক উল্টো। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, হাটটি অন্য কোথাও স্থানান্তর না করা পর্যন্ত সুপার মার্কেট নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পৌর কর্তৃক্ষ জানায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে যেন ব্যবসা করতে পারেন, সে জন্য পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ব্যয় ধরা হয় ১৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কাজের মেয়াদকাল প্রায় দুই বছর। এ সময়ে ব্যবসায়ীদের জন্য অস্থায়ী স্থান নির্ধারণ করা হয়। তহবাজারটিতে (ট বাজার) স্থানীয় কাঁচাবাজারে স্থানান্তর করা হয়। সাপ্তাহিক হাটটি ফুটবল মাঠে বসানোর জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার থেকে হাটটি ফুটবল মাঠে স্থানান্তরের কথা ছিল। এরই মধ্যে বাধা হয়ে দাড়ায় গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গাংনী হাইস্কুল ফুটবল মাঠ দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। গাংনীর মানুষের একমাত্র খেলার মাঠটি গেল বছর মাটি ভরাট করে সংস্কার করেন গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী। এতে মাঠে আবারও খেলাধুলা করার সুযোগ পায় স্থানীয়রা। পৌর কর্তৃপক্ষ মাঠের বিষয়টি ভাবনার মধ্যে রাখলেও এখন জনস্বার্থে সপ্তাহে দুইদিন হাট বসানোর কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও গাংনী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন ও যুবলীগ সম্পাদক গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক শফি কামাল পলাশ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে হাটটি না বসানোর দাবি জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলীর সাথে রাজনৈতিক মনোদ্বন্দ্ব রয়েছে মোশারফ হোসেনের। একসময় একই বৃন্তে থাকলেও বেশ কিছুদিন যাবত দুজন দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। এটি প্রকট আকার ধারণ করে গেল জাতীয় নির্বাচনের সময়। নৌকার প্রার্থী নাজমুল হক সাগরের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন মেয়র আহম্মেদ আলী। পক্ষান্তরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মকবুল হোসেনের পক্ষ নেন মোশারফ হোসেন ও শফি কামাল পলাশ।
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পৌর মার্কেটটি নির্মিত হলে ব্যবসায়ীরা সুন্দর পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারবেন। অথচ সাপ্তাহিক হাটটি সরানো না গেলে মার্কেটটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। আবার হাটের জন্য অস্থায়ী স্থান নির্ধারণ না করা হলে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়বেন। তারা এখানে ব্যবসা না করতে পারলেও অন্যস্থানে জায়গা করে নিবেন। এ হাটের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন সহস্রাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাছাড়া স্থানীয়দের স্বাপ্তাহিক বাজার করার জন্য গাংনী হাট অন্যতম একটি হাট হিসেবে বিবেচিত। ফুটবল মাঠে জায়গা না পাওয়ায় এ হাটটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইজারদারগণ।
জানা গেছে, গাংনী ফুটবল মাঠের জমি গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একার নয়। ব্যক্তি মালিকানাধিন বসতভিটা ছাড়াও স্থানীয় তহশীল অফিসের জমি রয়েছে। কিন্তু মাঠটি নিজেদের বলে দাবি করে জনগণের স্বার্থের কথা না ভেবে অস্থায়ী হাট বসানোয় বাধা দেয়া হচ্ছে।
গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী জানান, ফুটবল মাঠে হাটটি বসানোর কথা ছিল। সেটিতে বাধা দিচ্ছে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যেহেতু জায়গাটি তাদের, তারা পৌরসভাকে বলতে পারতো কিন্তু তা না করে সংবাদ সম্মেলন করে নোংরা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছেন। তাছাড়া সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্থ করছে।
তিনি আরো জানান, গাংনী শহরে তেমন কোনো সরকারি জায়গা নেই। যেখানে স্বাপ্তাহিক হাট বসানো যায়। তবে সুবিধাজনক স্থানে বিশেষ করে রাস্তার পাশে হলেও দ্রুত সাপ্তাহিক হাট বসানো হবে ও মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, যেহেতু মাঠটিতে স্থানীয় কিশোর, যুবকসহ নানা বয়সী শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে, তাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিসহ কেইউ চাই না এখানে হাট বাজার বসিয়ে ফলে তাদের খেলাধুলার বিঘ্ন ঘটাতে।
সমীকরণ প্রতিবেদন