শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সৌদিতে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৩-২০২৪ ইং
সৌদিতে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

সৌদি আরব থেকে মৃত্যুর খবর আসার পাঁচ মাস পর ছাবিনা খাতুন (২৪) নামে এক প্রবাসী গৃহবধূর মরদেহ ফিরে পেয়েছেন স্বজনেরা। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে লাশবাহী একটি গাড়ি মরদেহটি পৌঁছে দেয় তার বাড়িতে। পরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ছাবিনা খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাদপুকুরিয়া গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী।

স্বজনেরা জানান, ছাবিনা খাতুন নিজের পরিবারের সচ্ছলতা ও স্বামী-সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর তিন দিনের মাথায় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ছাবিনার মৃত্যু নিয়ে লোকমুখে নানা কথা শোনা গেলেও কী কারণে তিনি উচ্চ ভবন থেকে পড়ে মারা গেলেন, তা নিয়ে রহস্য থেকেই যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি ভবন থেকে লাফ দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বাদপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের পালিত ছেলে দালাল রফিকুলের মাধ্যমে সৌদির উদ্দেশে পাড়ি জমান ছাবিনা খাতুন। ঢাকার মগবাজার এলাকার তিশা ইন্টারন্যাশনালের মালিক ফারুক হোসেন ছাবিনাকে সৌদি যেতে সহায়তা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদির মালিকের বাসায় গিয়ে ছাবিনা দালালের কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল পায় না। পরিবারের ধারণা মালিকের অনৈতিক প্রস্তাব বা পাশবিক নির্যাতনে রাজি না হওয়ায় ছাবিনাকে ৮ তলা ভবন থেকে ফেলে দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবাসে মারা যাওয়া সাবিনা খাতুনের বাড়িতে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ী এবং ৬ বছর ও ৪ বছরের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে ছাবিনার মৃত্যুর পর আদম দালাল রফিকুল ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।

সাবিনার মা শিলা খাতুন বলেন, মৃত্যুর খবরের পর থেকে পুরো পরিবারের শোকের ছায়া নেমে আসে। মরদেহ না পাওয়াতে শোক বেড়ে আরও দ্বিগুণ হয়। দালাল রফিকুল আমার মেয়েকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ পাঠায়, সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমি দালাল রফিকুলের বিচার চাই।

``

স্বামী রুবেল হোসেন জানান, দালাল রফিকুল আমাদের বলেছিলেন, আমার স্ত্রীকে ভালো বেতনে চাকরি দিবে। তিনি মিথ্যা বলেছিলেন, সৌদিতে তাকে বিক্রি করা হয়। নির্যাতনের কারণেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন রুবেল। তিনি এই মৃত্যুর বিচার চান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবর হোসেন বলেন, ছাবিনা সৌদিতে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় তার মৃত্যুর সংবাদ আসে। মরার পাঁচ মাস পরে লাশ বাড়িতে এসেছে। তবে লাশের সাথে কোনো টাকা-পয়সা দেয়নি। দালাল রফিকুল এবং ঢাকার অফিস মিলে দুই মেয়েকে ২ লাখ টাকা টাকা দিয়েছে। এই নাম মাত্র টাকা দিয়ে দ্বায় সারা কাজ সেরেছে দালালপক্ষ। যেহেতু এই পরিবারটি অসহায় তাদের দিকে তাকিয়ে দালাল এবং সরকারের উচিত এ অসহায় পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন উদ্দিন জানান, বিষয়টা আমি শুনেছি। যদি কেউ অভিযোগ করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কমেন্ট বক্স