লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দর্শনা কেরু চিনিকলে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন
- আপলোড তারিখঃ
০২-১২-২০১৭
ইং
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল: লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দর্শনা কেরু চিনিকলের ২০১৭-১৮ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান শেষে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর ঢোঙ্গায় আখ ফেলে কেরু চিনিকলের আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন। ২০১৭-১৮ মাড়াই মৌসুমে ৭০ কার্য দিবসে ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার ৮ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদনের হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ মাড়াই মৌসুমে ১লাখ টন আখ মাড়াই করে সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয় বলে জানা গেছে। তবে গত মৌসুমে ৪৪ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আলী আজগার টগর বলেন, আজ আমাদের খুশির দিন চলতি মাড়াই মৌসুম শুরু করতে পেরেছি। আগের দিন গুলোতে এ মিল ৪/৫ মাস ধরে চলেছে। সেখানে বর্তমানে দুই থেকে আড়াই মাস ধরে মিলটি চলে। বাংলাদেশ স্বাধীন করার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে মিলগুলো বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করে গিয়েছেন। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক মিল কলকারখানা বিক্রী করে দিয়েছে। আদমজী জুট মিলটি অকেজো হয়ে শতশত শ্রমিক আজ বেকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শ্রমিক বাঁচাতে খুলনার জুট মিলগুলো আবার চালু করেছে। প্রথমে ৬৭ কোটি টাকা পরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে মিলগুলো চালু রেখেছে। পাটকল গুলো ধীরে ধীরে লাভের দিকে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে এসব উদ্যোগ নিচ্ছে। এরপর শ্রমিকদের দাবী দাওয়ার কথা তুলে বলেন শিল্পমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন। আগামী ৫ জানুয়ারী দেশে ফিরলে তার সাথে শ্রমিক ভাইদের দাবী কথাগুলো বলবো। এছাড়া আগামী সংসদ অধিবেশনে এসব দাবীর কথা তুলে ধরবো। এই বলে দেশের প্রতি মিল বাঁচিয়ে রাখার প্রতি আহবান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
এরপর অনুষ্ঠানে দুই কৃষক খয়েরহুদা গ্রামের আহসান হাবিব ও শৈলমারী গ্রামের বিশারত আলীকে বেশী আখ লাগানো ও একর প্রতি ৪৫ শতাংশ মেট্রিক টন আখের উৎপাদনের জন্য মিল কর্তৃপক্ষ পুরস্কার প্রদান করে। কেরু চিনিকলের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনিকল কর্পোরেশনের সচিব এবিএম আরশাদ আলী, কুষ্টিয়ার জগতি সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের, কেরু শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তৈয়ব আলী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, চুয়াডাঙ্গা বার কাউন্সিলের সভাপতি নুরুল ইসলাম, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম, শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্স, সহসভাপতি ফারুক হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক আকমত আলী, আব্দুল বারী, সাবেক এজিএম আলী কদর, কেরুর মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মনোয়ার হোসেন, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোশারফ হোসেন, মহাব্যবস্থাপক (ডিষ্ট্রিলারী) ফেদা হোসেন বাদশা, সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন, গিয়াস উদ্দিন পিনা। এছাড়া কেরুর শ্রমিক ও কর্মচারীরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স