পৌরবাসীর সুপেয় পানির সমস্যা সমাধান হলো
- আপলোড তারিখঃ
১৫-১১-২০২০
ইং
চুয়াডাঙ্গায় ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে পানি শোধনাগারের উদ্বোধনকালে মেয়র জিপু চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এখন থেকে নিরাপদ পানি পাবেন চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসী। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় এ শোধনাগারের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু। জনস্বাস্ব্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে ৩৭ শহর প্রকল্পের আওতাধীন এ পাম্প থেকে প্রতি ঘণ্টায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার পানি ও প্রতিদিন গড়ে ৭৫ লাখ লিটার পানি শোধন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় দেড় লাখ মানুষ সুপেয় পানি পাবে। চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসীর চাওয়া বহুদিনের প্রতিক্ষিত এ পানি শোধনাগারের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর মেয়র জিপু বলেন, এই প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হলো। এই শোধানাগার থেকে প্রতি ঘন্টায় ৩৫০ ঘনমিটার পানি শোধন করা হবে। যা চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা ৬০ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। প্রতিদিন পানির চাহিদা রয়েছে ৭৫ লাখ লিটার। এই শোধানাগারের মধ্য দিয়ে পৌরবাসীকে দুই ভাগে বিভক্ত করে এই সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় পানির সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে। এই পানির সমস্যা যাতে আর না থাকে, মানুষ যাতে সুপেয় পানি পাই, সেই চেষ্টায় করে যাচ্ছি।
মেয়র আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গায় রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট যা কিছু হচ্ছে, আমার পরিষদের মাধ্যমে সবকিছুতে আমি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছি। সাধারণ মানুষ অনেক সচেতন। যেই এলাকায় কাজ হয়, আমরা তাদের কাজের উপাদান সম্পর্কে জানালে, এখন তারা বুঝে নিচ্ছে। প্রত্যেকটি কাজের গুণগত মান আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। আমরা শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য এলইডি লাইট লাগিয়েছি। শহরের ডিভাইডারের ওপরে রঙ বে রঙের লাইট লাগিয়েছি। শ্রীমান্ত টাউনের স্থলে ৯ তলা ভবনের টেন্ডার ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। একটি ডাম্পিং স্টেশনের কাজ চলছে। সেটি চালু হলেই শহরের সব ময়লা সেখানে শোধনের জন্য যাবে। জৈব সার এবং গ্যাস তৈরি হবে। আরও একটা ডাম্পিং স্টেশন পেতে যাচ্ছি আমরা। তাছাড়া আরও ৪৭ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হবে। ইতিমধ্যে একশ এক কোটি টাকার কাজ চলমান। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ইতিহাসে আমার পরিষদের মাধ্যমে সব থেকে বেশি কাজ হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহাবুল ইসলাম সেলিম, জেলা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি জগলুর রহমান জগলু, পৌর সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র মুন্সি রেজাউল করিম খোকন, পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি, আবুল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল সুলতানা আঞ্জু রত্না, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, জেলা দোকান মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাফিজুর রহমান মাফি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.
জানিফ পানি, ঠিকাদার জামান, সুপার আব্দুর রশিদ প্রমুখ।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা যৌথভাবে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২০১৫ সালে। সম্প্রতি কাজ শেষে চালুর উপযোগী হওয়ায় অনুষ্ঠানিকভাবে এই শোধনাগার চালু করা হলো। উদ্বোধনী আলোচনা সভার পর অতিথিদের সাথে নিয়ে সুইচ টিপে শোধনাগার চালু করেন পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী।
কমেন্ট বক্স