বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঘুমন্ত দম্পত্তিকে জবাইকে করে হত্যা

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-১০-২০২০ ইং
ঘুমন্ত দম্পত্তিকে জবাইকে করে হত্যা
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে মোজাম্মেল শিশির: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়ায় শয়নকক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত শনিবার দিবাগত রাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ওই দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেন গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা ইয়ার আলী মোল্লা (৫৫) ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা খাতুন (৪৫)। এই হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল, দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেকসহ পুলিশের একাধিক টিম। পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার পরপরই পিবিআই-এর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে কৃষক দম্পতি হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে শতশত মানুষ তাদের মরদেহ দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইয়ার আলী মোল্লা পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর তিন মেয়েই বিবাহিত। দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো সন্তান নেই। ইয়ার আলী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা খাতুনকে নিয়ে গোবিন্দপুর গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। তার বাড়ির পাশেই আলাদা বাড়িতে বড় ভাই মৃত মসলেম আলী মোল্লা ও মেজ ভাই ইসলাম মোল্লার পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। ইয়ার আলীর ছোট মেয়ে ইতি খাতুন (২৫)-এর বিয়ে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ব্রামনিয়া গ্রামে হলেও সে পিতার বাড়িতেই থাকতেন। গত দুদিন আগে ইতি খাতুন পারকৃষ্ণপুর বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান। ফলে এই দুইদিন বাড়িতে তার বাবা ও সৎমা ছাড়া কেউ ছিল না। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইতি খাতুন বোনের বাড়ি থেকে পিতার বাড়ি ফিরে এসে দেখেন বাড়ির গেটে তালা মারা। তখন সে, বাড়ির অন্যপাশ যেয়ে তার পিতার ঘরের জানালা দিয়ে আব্বা আব্বা বলে ডাকতে থাকার একপর্যায়ে দেখেন তার পিতার ও মাতার গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। এই দেখে ইতি খাতুন চিৎকার করে কাদঁতে থাকলে প্রতিবেশিরা ছুটে আসে। পরে তার দুলাভাই শহিদুল ইসলামকে সংবাদ দেওয়া হলে তিনি এসে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে। ইয়ার আলীকে শয়নকক্ষের খাটের ওপর ও তার স্ত্রী রোজিনাকে ঘরের বারান্দায় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে জবাই করে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ধারণা, ‘শনিবার দিনগত রাতের কোনো এক সময় সুযোগ-বুঝে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা কৃষক দম্পতির ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছে। তবে ঘনজনবসতি এলাকায় রাতে কৃষক দম্পতিকে জবাই করে হত্যা করা হলেও প্রতিবেশিরা কেউ কিছু জানতে বা বুঝতে পারেনি এটা সবার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।’ এলাকাবাসী আরও ধারণা করে বলে, ‘প্রতিবেশিরা কেউ না কেউ কৃষক দম্পতি হত্যার বিষয়টি জানলে বা দেখলেও হয়তো খুনিদের ভয়ে মুখ খুলছে না।’ গ্রামের কয়েকজন জানান, ‘রোববার সন্ধ্যায় ইয়ার আলীর প্রথম পক্ষের ছোট মেয়ে ইতি খাতুন বাবার বাড়িতে আসেন। তিনি বাড়িতে ঢুকে দেখতে পান বাবা ও সৎমায়ের গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। এরপর তিনি চাচা-চাচাতো ভাইসহ প্রতিবেশীদের জানান।’ গ্রামের কয়েকজন আরো জানান, ‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের গ্রামে আগে হতে দেখিনি। আমাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত, আমরা তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ ইয়ার আলির বড় মেয়ে জানান, ‘আমার আব্বার কোনো ছেলে নেই। আমরা তিন বোন। আমাদের ৪০বিঘার মতো জমি রয়েছে। এই জমির লোভে আমার আব্বা ও মাকে খুন করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’ ইয়ার আলির ছোট মেয়ে ইতি খাতুন জানান, ‘রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমি বাপের বাড়িতে আসি। এসময় বাড়িতে তালা মারা দেখে ভেবেছিলাম আব্বা-মা প্রতিবেশি কারও বাড়িতে যেয়ে গল্প করছেন। পরে তাদের গলাকাটা লাশ দেখে চিৎকার করে কাদঁতে থাকলে প্রতিবেশিরা আসেন। আমি আমার পিতা-মাতার খুনিদের বিচার চাই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ‘চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত হিবাত আলীর ছেলে নিহত ইয়ার আলী তার মায়ের অংশের ১১বিঘা জমি আনুমানিক ১০-১১ বছর আগে নিজ নামে রেজিস্ট্রি করেন। এই ঘটনায় নিহত ইয়ার আলীর অন্য ভাই-বোনেরা তাঁর ওপর বেশ বিরক্ত ছিলেন।’ ওই ঘটনার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘দম্পতি খুনের ঘটনা জানার পরপরই দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেকসহ পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। এই কৃষক দম্পতি হত্যার পিছনে প্রকৃত কী কারণ আছে তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের পিছনে দুটি কারণ থাকে। একটি পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিশোধ হিসেবে, আরেকটি হলো অর্থসম্পদ হাতানোর জন্য। আমরাও এ-দুটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছি। আশা করছি খুব শিঘ্রই হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনসহ খুনিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ। এছাড়া আসামি ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’