বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বাড়ছে সাইবার অপরাধ

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৮-২০২০ ইং
বাড়ছে সাইবার অপরাধ
সমীকরণ প্রতিবেদন: সাইবার অপরাধ বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। মানুষের ঘরে থাকা এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহার। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধ। করোনা পরিস্থিতিতে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। নানা সীমাবদ্ধতায় তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে নানাভাবে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সাইবার অপরাধ দমনে এবার সরকার গ্রহণ করেছে বহুমুখী উদ্যোগ। ইতোমধ্যে চালু হয়েছে সাইবার ট্রাইব্যুনাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে গঠন করা হয়েছে সাইবার ইউনিট। প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। শীঘ্রই চালু করা হবে সাইবার থানার কার্যক্রম। দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। গত বছর সারাদেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৭২১টি মামলা বিচারের জন্য সাইবার ট্রাইব্যুনালে এসেছে। চলতি বছর এর সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সালে এসেছিল ৬৭৬টি, ২০১৭ সালে ৫৬৮টি, ২০১৬ সালে ২৩৩টি, ২০১৫ সালে ১৫২টি, ২০১৪ সালে ৩৩টি এবং ২০১৩ সালে এসেছে ৩টি মামলা। ক্রমেই মামলার সংখ্যা বাড়ছে। গত বছরের মোট অভিযোগের ৫৩ শতাংশ এসেছে পুরুষদের কাছ থেকে, বাকি ৪৭ শতাংশ এসেছে নারীদের কাছ থেকে। এবার করোনাকালীন অধিকাংশ মানুষ বাসায় বসেই অফিসের কাজ করেছেন। সারাদিন কাটছে তাদের প্রযুক্তির মধ্যে। এই কারণে সাইবার অপরাধ আরও বাড়ছে। যারা সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন, তারা পাচ্ছেন না সমাধান। এমনই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন দেশের নামী-দামী তারকারা। তারকাদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারসহ ইউটিউবেও তাদের নিয়ে বহু কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য করছে কতিপয় বিকৃত মানসিকতার মানুষ; যা শিল্পীর মানসিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভেতর ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই বাংলাদেশের তারকারা সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হন ফেসবুকে। অনেকে কেবল বুলিংয়ের শিকার হয়ে কাজের আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছেন। অতিসম্প্রতি ফেসবুকে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হয়েছে চার বিদেশী। ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া ছিল তাদের প্রতারণার কৌশল। ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখা চক্রের চার সদস্য সিসম, মরো মহাম্মদ, মরিসন, এ্যান্থনিকে গ্রেফতার করে। এরা নাইজিরিয়া ও ঘানার নাগরিক। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার চার বিদেশীর প্রতারণার শিকার একজন ভিকটিমের অভিযোগের সূত্র ধরে সিআইডি তাদের খুঁজে বের করে। তারা অভিনব কায়দায় (সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের আইডির সঙ্গে) ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করে। বন্ধুত্বের এক পর্যায়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে। প্রতারণার মাধ্যমে সারাদেশে গত কয়েক মাসে তারা অসংখ্য ভিকটিমের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একইদিনে ‘শিলংতীর’ নামে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জুয়া থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকা তারা হুন্ডির মাধ্যমে ভারত পাচার করত। ১৯৯০ সালে সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের শিলং ও গৌহাটি থেকে চালু হয় এই জুয়া খেলাটি। এর পর ধীরে ধীরে জুয়া খেলাটি সিলেটের অনেককে সর্বস্বান্ত করে নেত্রকোনা হয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করে। পুলিশ প্রথমে রাজধানীর কালাচাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে এবং এর সূত্র ধরে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানা এলাকা থেকে। ঘটনা দুটি সাম্প্রতিক। এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অধিকাংশই অভিযোগ আকারে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে, বাকি সবই থেকে যাচ্ছে আড়ালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার অপরাধী শনাক্ত ও ভিকটিমদের তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না থানা পুলিশ। থানায় সেই ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট ও তথ্য প্রযুক্তিতে (আইটি) দক্ষ পুলিশ সদস্যের অভাব রয়েছে। ফলে চাইলেই কোন তদন্ত কর্মকর্তা প্রযুক্তি মামলার তদন্ত করতে পারেন না। তাই সব প্রযুক্তি মামলার সমাধান করতে শীঘ্রই সাইবার পুলিশ স্টেশন বা সাইবার থানা হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির অধীনে প্রস্তাবিত এই সাইবার থানার প্রধান হবেন একজন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তার সঙ্গে ১৬৯ প্রযুক্তিদক্ষ কর্মকর্তা থাকবেন। রাজধানীর ঢাকায় সাইবার থানা স্থাপিত হলেও এটির কার্যক্রম দেশব্যাপী। সাইবার মামলা পরিচালনা করবেন এসব দক্ষ কর্মকর্তা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইবার থানা চালু বিষয়ে আন্তরিক। মন্ত্রণালয় চায় দ্রুত এই থানা চালু হোক। কারণ, অপরাধের ধরন পাল্টেছে। বর্তমানে প্রযুক্তিগত অপরাধের মাত্রা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। প্রযুক্তিগত অপরাধের শিকার হচ্ছেন সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তাই এটি দ্রুত চালুর বিষয়ে সরকারী নিদের্শনা আছে। সাইবার থানার কাঠামোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যে সাইবার থানা স্থাপন করা হবে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এটার অনুমোদনও হয়ে গেছে। থানার কার্যক্রম শুরু না হলেও ইতোমধ্যে সারাদেশে যেসব সাইবার মামলা হচ্ছে সে সবের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। কার্যক্রম শুরু হলেই মামলার তদন্ত করবে সাইবার থানা। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সেবা পাবে বলে আমরা আশাবাদী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইবার ক্রাইম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ সংক্রান্ত মামলাও বাড়ছে। গত ৭ বছরে সারাদেশের বিভিন্ন থানা থেকে বিচারের জন্য সাইবার ট্রাইব্যুনালে দুই হাজার ৬৪২টি জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১২৪টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৩৫টি মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ৮৯টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছে। সূত্র জানায়, দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা দিয়ে মামলার তদন্তও করানো হচ্ছে না। ফলে মামলার সংখ্যা বাড়তেই থাকে। ঝুলে যায় বিচার কাজ। আবার যথেষ্ট যুক্তি-প্রমাণের অভাবে মামলাগুলো যেমন খারিজ হয়ে যায়, আসামিরাও তেমনই খালাস পেয়ে যান। সাইবার থানা: একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত হবে সাইবার থানা। তার সঙ্গে থাকবেন তিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১২ সহকারী পুলিশ সুপার, ২৪ পুলিশ পরিদর্শক, ৭২ উপপরিদর্শক, ১৮ সহকারী উপপরিদর্শক এবং ৪০ কনস্টেবল। প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তারা এখানে নিয়োগ পাবেন। পাশাপাশি প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের একাধিক প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। এসব প্রশিক্ষিত প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা যে ধরনের সাইবার অপরাধই হোক না কেন, তারা সমাধান দিতে পারবেন। সাইবার মামলার চার্জশীট সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনালেই দাখিল করবেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’