দামুড়হুদা কৃষি অফিসের উদ্যোগ, প্রথমবারের মতো ইটভাটায় চাষ হচ্ছে আউশ ধান
আওয়াল হোসেন:
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দিয়েছেন এক ইঞ্চি জমি পতিত রাখা যাবে না। এই দিকনির্দেশনায় দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসের পরিকল্পনায় চলতি আউশ মৌসুমে ইটভাটায় ২৪ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ শুরু হয়েছে। এই প্রথমবার ইটভাটা থেকে এবার ১২০ মেট্রিক টন আউশ ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। উৎপাদিত ধানের বর্তমান বাজার দর ৩০ লক্ষাধিক টাকা। ইটভাটায় ধান উৎপাদনের এই পরিকল্পনাটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হলে উপজেলায় ইটভাটা থেকে আরও অতিরিক্ত আউশ ধান উৎপাদন সম্ভব হবে। খাদ্যের উদ্বৃতের তালিকায় আরও নতুন দিগন্তের ইতিহাস সৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে ইটভাটাগুলো আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিস ইটভাটা মালিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৩৪টি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার জমিতে রয়েছে ইট পোড়ানোর মূল চিমনিসহ ক্লিনের আবকাঠামো, ক্লিনের চারদিক টলি চলাচলের রাস্তা ও ইট রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, মাটি রাখার পর্যাপ্ত জমি, অফিস ঘর, ট্রাক বা টলি রাখার স্থানসহ অনান্য ভৌত অবকাঠামো বাদে চাষযোগ্য মোট জমির পরিমাণ ৭৬ হেক্টর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এক ইঞ্চি জমি পতিত রাখা যাবে না। এই দিকনির্দেশনায় চলতি আউশ মৌসুমে ইটভাটায় আউশ ধান উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ ধারাবাহিকতায় রাজা ইটভাটা, সুপার ব্রিকস্, বন্ড, বাদশা ও রেড ইটভাটায় রোপা আউশ ধান উৎপাদনের আওতায় আসে। এবার ইটভাটায় ২৪ হেক্টর জমিতে কাঁচা ইট পট তৈরির স্থানে রোপা আউশ ধান রোপণ করা হয়েছে। এ জনপদে প্রতিবছর ইটভাটা বর্ষার কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। এবার উপজেলা কৃষি বিভাগের পরিকল্পনায় ইটভাটার জমিতে রোপা আউশ ধান থেকে ১২০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩০ লক্ষাধিক টাকা। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় মানুষজন এসব ইট পটে গরু-ছাগল চরিয়ে লালন-পালন করে থাকেন। সেই সঙ্গে ইট কাটা মৌসুমের বেকার হয়ে থাকা শ্রমিকেরা এবার কৃষি শ্রমিক হিসেবে তারাও বিকল্প রুটি রুজির সন্ধান লাভ করেছেন। সব ইটভাটাগুলো বর্ষা মৌসুমে তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের জন্য আউশ ধান রোপণে এগিয়ে এলে এ উপজেলা অতিরিক্ত খাদ্যে উৎপাদনের উদ্বৃতের তালিকায় নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হবে।

দামুড়হুদা কলেজ এলাকার সুপার ব্রিকস ফিল্ডের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘আমার ব্রিক ফিল্ডের আট বিঘা জমিতে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এই প্রথমবার রোপা আউশ ধানের চাষ করেছি। এর আগে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আউশ ধানের জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকত। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে আবার ইট কাটার পট হিসেবে ব্যবহার করা হত। আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণ জমিতে বর্ষা মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। বর্ষা মৌসুমে জমি পতিত ফেলে রাখার চেয়ে সীমিত সময়ের মধ্যে আউশ ধানের আবাদ করা লাভজনক। এই সিদ্ধান্তে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। তাছাড়া স্থানীয় ইট কাটা শ্রমিকেরা আউশ জমিতে কৃষিকাজ করে বাড়তি রুটি-রুজির সন্ধান পেয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনিরুজাম্মান বলেন, উপজেলার ইটভাটাগুলোতে বর্ষা মৌসুমে ৭৬ হেক্টর জমি তিন মাস থেকে সাড়ে তিন মাস পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এ সময় এসব জমিতে নানা ধরনের আগাছ জন্মে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক ইঞ্চি জমি পতিত রাখা যাবে না। এই নির্দেশনায় উপজেলা কৃষি বিভাগের পরিকল্পনায় কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সব পতিত জমি আবাদযোগ্য করতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে ইটভাটার মালিকেরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পরিত্যাক্ত ইটভাটাগুলোর মধ্যে ২৪ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের আবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ এ বছর ভাটা থেকে ১২০ মেট্রিক টন আউশ ধান উৎপাদনের আশা করছে। সেই সঙ্গে ইটভাটাগুলোতে বর্ষা মৌসুমে রোপা আউশসহ সবজি চাষে এগিয়ে এলে আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কৃষি বিভাগ ইটভাটায় রোপা আউশের দিকে কড়া নজরদারি রেখেছে। তাছাড়া বোরো মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে বর্ষা মৌসুমে বেশি পরিমাণ আউশ ধান উৎপাদনে খরচ কম হয়। বর্ষা মৌসুমে ইট কাটা বেকার শ্রমিকেরা কৃষি জমিতে কাজ করে তারাও বিকল্প রুটি-রুজির সন্ধান পাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস মাঠ পর্যায় কাজ শুরু করেছে।