বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় আরও দুজনের মৃত্যু!
- আপলোড তারিখঃ
১০-০৮-২০২০
ইং
এক দিনের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গা ও দর্শনায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনা
নিজস্ব প্রতিবেদক/দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গায় এক দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার ভোর পাঁচটার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড এবং বেলা একটার দিকে আলুকদিয়ায় পৃথক দুটি বাসের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার ফারুক হোসেনের ছেলে সোহাগ হোসেন (২৮) ও তাহাজ উদ্দীন (৬০)। এর আগে গত শনিবার ভোরে সরোজগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের প্রাণহানী ঘটে।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের কুষোডাঙ্গা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে সোহাগ ওরফে লাল্টু (২৭) ও একই ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের বালিরগর্ত পাড়ার আব্দুল আলীমের ছেলে ফারুক হোসেন (২৭) গত শনিবার রাত ৯টার দিকে বাড়ি হতে স্যালোইঞ্জিনচালিত লাটাহাম্বারযোগে বিচালী বোঝায় করে মেহেরপুর জেলার কাথুলী বাজারে বিক্রি শেষে দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হয়। পথের মধ্যে ভোর পাঁচটার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড জীবননগর বাস কাউন্টারের অদূরে সড়কের পার্শ্ববর্তী স্থানে লাটাহাম্বার গাড়িটি রেখে চা-পানের বিরতি নেন চালক। বিরতি শেষে গাড়ির স্যালোইঞ্জিনে পানি দেওয়ার সময় ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা জীবননগর-দর্শনা অভিমুখী উত্তরা ইউনিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে থাকা লাটাহাম্বারের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিবহনের ধাক্কায় লাটাহাম্বারটি ছিটকে সড়কের ধারের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় লাটাহাম্বারের চালক লাল্টু পরিবহনের নিচে পড়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই পরিবহনটি কৌশলে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় লাল্টুকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাতটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তাঁর পরিবারের কাছে বেলা একটার দিকে হস্তান্তর করা হয়। গতকালই মাগরিবের নামাজের আগ মুহূর্তে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল জানান, নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনা-কবলিত ঘাতক পরিবহনসহ চালক পলাতক রয়েছেন।
অপর দিকে, গতকাল বেলা একটার দিকে চুয়াডাঙ্গার হাতিকাটা মোড়ে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তাহাজউদ্দীন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন। নিহত বৃদ্ধর বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, বৃদ্ধ তাহাজউদ্দীন হাতিকাটা থেকে ওষুধ কিনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া মেহেরপুরগামী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস তাহাজউদ্দীনকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর জখম হন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাজউদ্দীনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতলের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বৃদ্ধকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, বেলা একটার দিকে হাতিকাটা মোড়ে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একজন গুরুতর জখম হয়েছে বলে তারা জানতে পারে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই বৃদ্ধকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারের সময় তাহাজউদ্দীনের নিঃশ্বাস চললেও হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে ও সদর উপজেলার হাতিকাটা মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে বাসের ধাক্কায় মৃত সোহাগ হোসেনের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাজউদ্দীনে পরিচয় এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। আগামীকাল (আজ সোমবার) নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত তাজউদ্দীনের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের লাশঘরে রাখা ছিল।
কমেন্ট বক্স