বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

উন্নয়নে বাঁধা দিলে কঠোর কর্মসূচি- মেয়র জিপু চৌধুরী

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৭-২০২০ ইং
উন্নয়নে বাঁধা দিলে কঠোর কর্মসূচি- মেয়র জিপু চৌধুরী
অতর্কিত হামলা ও মারপিটের অভিযোগ তুলে পৌর পরিষদের মানবন্ধন নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ভিজিএফ-এর চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জের ধরে মানববন্ধন করেছে বিবাদমান দুটি পক্ষ। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সামনে পৌরসভার আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে ব্যানারে লেখা ছিল- ‘চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন কর্তৃক গত ২৮ জুলাই অতর্কিত হামলা ও মারপিটের প্রতিবাদে মানববন্ধন’। টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এ মানবন্ধনে সুদীর্ঘ লাইনে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বাধা প্রদান করছেন বলে অভিযোগ করে বলেন, ‘২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আমাদেরকে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। ওই ভোটে পরাজয় তিনি মেনে নিতে পারেননি। সে কারণেই আমাদের পৌরসভার উন্নয়ন মেনে নিতে না পেরে মাননীয় সংসদ সদস্য তার গুণ্ডা বাহিনী নিয়ে এসে পৌরসভার ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাউন্সিলরদের লাঞ্ছিত করাসহ অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন।’ মেয়র জিপু আরও বলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত প্যাডে অনৈতিকভাবে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অর্ধেক ভিজিএফ চাল দাবি করে। আমরা এই দাবিটি অযৌক্তিক জেনেও এমপি সাহেবকে সম্মান দেখিয়ে তার মনোনিত দুই সদস্যকে চিঠি দিয়ে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে অবহিত করি। প্রধানমমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে, প্রকৃত গরীব অসহায়ের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় এতো বড় একটা দায়িত্ববান মানুষ, যাকে চুয়াডাঙ্গার মানুষ অনেক আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিল, সেই মানুষ নিজে এসে আমাদেরকে লাঞ্ছিত করেছেন। তার প্রতিবাদেই আমাদের আজকের এই মানববন্ধন কর্মসূচি। সরকারি কাজে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছেন। সত্য ঘটনা যেটি আমাদের সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে এমপি মহোদয় কী কী করেছেন, সবই দেখা যাচ্ছে। তিনি নির্লজ্বভাবে আজকে কিছু মহিলাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষদেরকে চাল দেওয়া হবে বলে তাদেরকে নিয়ে মানববন্ধন করেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) যে ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর কাছে, সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জানান দিয়েছি, বিচার দিয়েছি। জনগণ বিচার করবে, কে অন্যায় করেছে। আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করব, আপনার এই দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড থেকে আপনি অবশ্যই বিরত থাকবেন। আপনারা জানেন আমরা এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও আমাদেরকে চেয়ারে বসতে দিবে না বলেছিল তিনি। পৌর পরিষদে ভাঙচুর করেছে, তা পত্রিকায় এসেছে। চৌরাস্তার মোড়ে মিটিং করে বলেছে, ব্রিজ পার হতে দিবে না। পৌরসভায় ঢুকতে দিবে না। রাস্তায় কে কখন হারিয়ে যাবা মিয়া। তবুও আমরা কর্ণপাত না করে, আমরা মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছি। মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, আমরা পৌরবাসীকে কথা দিয়েছি, জীবনের বিনিময়ে হলেও আপনাদের পাশে থাকব। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা জানেন, থানায় পর্যন্ত হামলা চালিয়েছে। সংবাদপত্র অফিস, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ভাইদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে, যাতে এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চুয়াডাঙ্গায় না থাকে। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করছি বলেই, আজকে আমাদের ওপরে হামলা করা হচ্ছে। গত ২২ তারিখে ডিসি অফিসে এক সভায় তিনি পৌরসভায় তালা মেরে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। মেয়র জিপু এমপির উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি তো গতকাল আসলেন, কই তালা মারতে পারলেন? পৌরসভা বন্ধ করতে পারলেন না তো! শোনেন আপনি মুরব্বি মানুষ, আপনাকে আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তবে এই নয়, আপনি মাথায় উঠবেন। আমাদের ওপর অত্যাচার করবেন, আর আমরা তা নিরবে সহ্য করব। মানুষ এখন সচেতন, মানুষ বোঝে-জানে। এই কর্মকাণ্ডগুলো কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ। জনগণের ওপর ছেড়ে দিন, জনগণ বিচার করবে। আমরা অন্যায় করলে মানুষ আগামীর ভোটের মাধ্যমে জবাব দিয়ে দেবে। আপনি যদি খারাপ কাজ করে থাকেন, আপনারও ভোট আছে। আপনার ভোটের মাধ্যমেও জবাব দিয়ে দিবে। আমরা মানুষের ওপরে আস্থাশীল। আমরা তাদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিই। তারা যেটা রায় দিবে, আমরা সেটা মেনে নেব। এই মানববন্ধনের পরও যদি আমাদের কোনো কঠোর কর্মসূচি দিতে হয়, তবে দেব। এছাড়াও তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আগেও তো পৌরসভার কাজ হয়েছে। আপনারও তো ছিলেন। কয়টা মানুষকে এলাকায় যেয়ে বুঝিয়ে এসেছেন। কাজের গুণগত মান কেমন? কাজে কোনো এলাকাবাসী যদি অভিযোগ দিয়েছে, তাদেরকে চাঁদাবাজ বলে ধরিয়ে দিয়েছেন। আতঙ্ক সৃষ্টি করিয়ে দিয়েছেন। যাতে মানুষ সেই কাজ বুঝে না নিতে পারে। সেই কাজের জন্য মানুষ আজ দুর্ভোগের মধ্যে আছে। এখনকার পরিষদ যেই কাজ করছে, মানুষ তা দেখে নেয়, বুঝে নেয়। মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় চলান উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, ৯১ কোটি টাকার কাজ চলছে, এই কাজে কী কী মেটিরিয়ালস আছে, আমরা কিন্তু সব মানুষকে বুঝিয়ে দিয়ে আসছি। আমরা মানুষকে বলি, আমাদের চোখ আপনারা হয়ে যান। তাহলে কাজে সমস্যা থাকবে না। সাইটে ক্যামেরা সেট করেছি। ক্যামেরা কাজ করবে। সাংবাদিক, এলাকার জনগণ কাজ করবে। পৌর পরিষদ, কাউন্সিলররা কাজ করবে। পৌর পরিষদে এর আগে মানুষ কী পেয়েছে। চাল নিতে এসে ধাক্কা খেয়েছে। মানুষের সব মনে আছে। মানুষ লাঞ্ছিত হয়ে মাতা ফাটিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গেছে। তাঁর প্রতিফলন হয়েছে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের নির্বাচনে। যেই পৌরসভার গেট ছিল বন্ধ। আজকে সেই পৌরসভার গেট উন্মুক্ত। মানুষ এখন এক কাপ চা খেয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি যায়। আগে মেয়রকে একটা কথা বলতে ভয় পেত। এখন সেই মানুষেরা মেয়রের সামনে বসে কথা বলে। মানুষের দোয়ায় আল্লাহ আমাদের হেফাজত করবে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুল হক বিশ্বাস, প্যানেল মেয়র মুন্সি রেজাউল করিম খোকন, পৌর সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর সুলতানারা রত্না, সিরাজুল ইসলাম, রাসেদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, শাহিনা আক্তার, আবুল হোসেন, নাজরিন পারভীন, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম মোস্তফা, শেফালী খাতুন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, পৌর পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের একাংশ।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’