কে এই আব্দুল হাকিম?
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০৭-২০২০
ইং
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
অস্ত্র, গুম ও হত্যা মামলার আসামি হাকিম নামের এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যান্তঞ্চলের আইলহাঁস ইউনিয়নের পদ্মবিল গ্রামের আব্দুল হাকিম আইলহাঁস গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে। দুই বোনের বিবাহ দেওয়ার পরেই সংসারের অভাব অনটনের কারণে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজ শুরু করেন হাকিমের মা-বাবা। তিনি গ্রামে থাকলেও নামমাত্র কাজ করতেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময় হাকিম তাঁর মা-বাবার কাছে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেসে কাজও করেছেন।
২০১৫ সালে পাশ্ববর্তী রায়লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল গাফ্ফারের ছেলে হ্যাবাকে নিয়ে হাকিম একবার নিরুদ্দেশ হন। সপ্তাহ-খানেক পরে হাকিম তাঁর নিজ বাড়িতে ফিরে এলেও হ্যাবা আজও ফিরে আসেননি। নিখোঁজের ঘটনাটি হাকিমের নাটক ছিল বলে হ্যাবার পরিবার ধারণা করে। হ্যাবার পিতা ওই সময় এ ঘটনায় হাকিমের নামে একটি অপহরণ মামলা করেন। ২০১৮ সালে আইলহাঁস গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মুদি দোকানি হাসিবুলকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ মামলায়ও হাকিমকে অভিযুক্ত করা হয়। গত বছরের শেষের দিকে আইলহাঁস গ্রাম থেকে হাকিমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁকে নিয়ে অভিযানে গিয়ে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করে পুলিশ। সেই অস্ত্র মামলায় হাকিমকে জেলে যেতে হয়। গত বছরের শেষের দিকে হাকিম সেই মামলায় জামিনে বের হয়ে ঢাকায় চলে যান। পরে করোনা পরিস্থিতিতে তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, হাকিম বাড়িতে ফিরে এলেও তিনি একটি রাতের জন্যও নিজের বাড়িতে ঘুমাতেন না। বৃদ্ধ নানীর নিকট মাঝে মধ্যে খাবার খেলেও বিভিন্ন সময় তিনি বাইরে খাবার খেতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আইলহাঁস গ্রামের ফয়জুলের ছেলে পিয়ার পদ্মবিলে মাছ ধরতে হাকিমকে ডেকে নিয়ে যান। ওই দিনই রাত ১০টার দিকে বাঁচাও, বাঁচাও চিৎকারে খোঁজ করে এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে পদ্মবিলের পানিতে ভাসমান লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পুলিশ জানায়, হাকিমের মাথায় ভারি কোনো বস্তু দিয়ে প্রথমে আঘাত করা হয়। পরে এক থেকে একাধিক ব্যক্তি তাঁকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কমেন্ট বক্স