বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রোগীর সঙ্গে কুকুর-বিড়ালের বসবাস নিত্যদিনের এ দৃশ্য!

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০৭-২০২০ ইং
রোগীর সঙ্গে কুকুর-বিড়ালের বসবাস নিত্যদিনের এ দৃশ্য!
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা! আফজালুল হক/রুদ্র রাসেল: যে ট্রলিতে করে রোগীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই ট্রলির নিচ দিয়ে একটি কুকুরও হেঁটে যাচ্ছে। ওয়ার্ডে বাচ্চা তুলে রীতিমতো সংসার পেতেছে বিড়াল। আয়েশি ভঙ্গিতে ঘুরেও বেড়াচ্ছে এরা। ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দায়সহ আইসোলেশন ওয়ার্ডে শুয়ে থাকা রোগীদের গা ঘেঁষে ঘুরে বেড়ানো কুকুরগুলোকে নিয়ে মাথা ব্যথাও নেই কারো। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নিত্যদিনের এ দৃশ্য এখন নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। আপনি হাসপাতালে যাবেন আর কুকুর-বিড়ালের সঙ্গে আপনার হবে না, এটা এখন ভাবাই যায় না! এসব প্রাণির বসবাসের নিরাপদ স্থান যেন এই হাসপাতালটিই। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কুকুর, বিড়ালের উৎপাতে অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনেরা। দীর্ঘদিন যাবত এই সমস্যার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার রোগীর স্বজনেরা বললেও মেলেনি কোনো প্রতিকার। হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে প্রসব করা বিড়ালের দুটি বাচ্চা দিব্যি হাসপাতালের ওয়ার্ড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার দুটি বাচ্চা ওয়ার্ডের মধ্যে মজা করে খেলছে। দেখা গেল, শয্যাপাশের যে র‌্যাকে রোগীর জন্য খাবার ও অন্যান্য জিনিস রাখা, তার ওপর উঠে বিড়ালের বাচ্চা দুটি বসে আছে। আবার অস্ত্রোপচার করা রোগীর শয্যার নিচে যে থলেতে রক্ত-পুঁজ জমা হচ্ছে, সেই ব্যাগের ওপরেও বিড়ালের বাচ্চা উঠে বসে আছে। প্রতি বিভাগে গড়ে ২-৫টি করে কুকুর, বিড়ালের দেখা মেলে। এসব বিড়াল দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে থাকছে। তবে বিড়ালের উপদ্রব কমানোর জন্য কোনো উদ্যোগ ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। রাত হলেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কুকুরের অত্যাচারে অতিষ্ট রোগীরা। এতে রোগীদের অস্বস্তির পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এদিকে কুকুর, বিড়ালের উপদ্রব ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি রোগীর জন্য রাখা খাবারগুলোতেও মুখ দিচ্ছে বিড়াল। যা অত্যান্ত ঝুঁকির বিষয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিজেরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি, বিষয়টি সমাধান করার জন্য। সরকারি কোনো ওয়ার্ড বয় না থাকায় সমস্যা বেড়েই চলছে। সোহেল নামের এক রোগী অভিযোগ করে জানান, দুদিন ধরে অসুস্থ ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন তিনি। দিনের বেলা হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিড়ালের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। এমনকি রোগীর খাবার টেনে নিয়ে যায়। আবার রাতে কুকুরের উপদ্রুপ। রোগীর বিছানাতেই থাকছে এসব কুকুর-বিড়াল। এতে জীবাণু ছড়াচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে দিনে সমস্যা না হলেও রাতে কুকুর, বিড়ালের উপদ্রবে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনেরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন সাদিয়া ইসলাম বলেন, মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে আসেন। কিন্তু এই হাসপাতালে বিড়ালের উৎপাতে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্মচারী, নার্স ও আয়াদের বেশ উদাসীন মনে হয়েছে। রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বলার কিছুই নেই। কিছুটা পরিস্কার থাকলেও যেভাবে ওয়ার্ডের ভেতরে-বাইরে কুকুর-বিড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। এ বিষয় নজর দেওয়ার মতো কেউই নেই। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার সার্জারি (পুরুষ) ওয়ার্ডে দায়িত্বরত এক সেবিকা বলেন, ‘বিড়াল শুধু রোগীদের যন্ত্রণা বাড়ায়নি, আমাদেরও অশান্তিতে রেখেছে। বিড়ালগুলো যেখানে-সেখানে পায়খানা করে হাসপাতাল নোংরা করছে। যেখানে সেখানে বাচ্ছা পাড়ছে। এত বিড়াল হয়ে গেছে যে, ভয় পাই কখন এসে আঁচড় কেটে দেবে। যখন-তখন এসে বেডে শুয়ে পড়ছে, খাবারে মুখ দিচ্ছে। চারদিকে লোম উড়ছে। মাঝে মাঝে ভয় হয় এই যেন কোনো রোগ হয়।’ এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শামীম কবীর বলেন, ‘আমিও লক্ষ্য করেছি হাসপাতালে কুকুর, বিড়ালের উৎপাত বেড়েছে। এতে জীবাণু ও বিড়ালের পশম ছড়াচ্ছে। নিজেরা থাকাকালীন সময়ে তাড়িয়ে দিই। তবে সরকারি ওয়ার্ড বয় থাকলে এত সমস্যা হত না। সেই সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, অভয়ারণ্য বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কুকুর নিধন বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট আবদেন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডিভিশন কুকুর নিধন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এ জন্য কুকুরের উৎপাত বেড়েই চলছে। এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘আমি এর আগে হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কুকুর ও বিড়ালের উৎপাতের বিষয়টি লক্ষ্য করি। সেই সময় আমি বিকেলের মধ্যে হাসপাতালের পিছনের গেইট ও রান্নাঘরের গেট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিই। তারপর থেকে অনেক উৎপাত কমেছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের নতুন ভবনে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাই দুই জায়গায় চিকিৎসা দেওয়ায় লোকবলের কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। আর সব সময় হাসপাতালের মেইন গেইট খোলা রাখতে হচ্ছে। এ জন্য কুকুর, বিড়াল ঢুকে পড়ছে। এ ছাড়াও হাসপাতালের প্রতিটা ওয়ার্ডের জানালাতে নেট দেওয়া হবে, যেন বিড়াল না ঢুকতে পারে। আমরা এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’ তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের খাবার পরিদর্শনের সময় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পরিদর্শন করা হয়। তবে রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান তিনি।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’