চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ!
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৭-২০২০
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তীব্র দাবদাহ হাঁপিয়ে উঠছে জনজীবন। এমনকি স্বস্তি পাচ্ছে না প্রাণিকূলও। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে হাপিত্যেশ করছে সবাই। গরমের তীব্রতা বেশি হওয়ায় শীতল হচ্ছে না প্রকৃতি। বরং ভ্যাপসা গরমে আরও অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে মানুষ। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে পানি সংকট। শহরজুড়ে প্রতিটি পানি সাপ্লাইয়ের লাইনে লাগানো হয়েছে পানির মিটার। বছর বছর বাড়ছে পৌর করের বোঝা। প্রকারভেদে পৌরবাসীকে প্রতিমাসে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের পানির বিল। তারপরেও মিলছে না সুপেয় পানি। এতে দেখা দিয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। খাওয়ার জন্যও পানি পাচ্ছেন না অনেকে। অনেককে পাশের কারও বাড়ি থেকে টিউবওয়েলের পানি এনে প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে। দিনে দুবার করে পানি দেওয়া হয়। অথচ চারবার করে পানি দেওয়ার কথা। সে পানিতেও থাকে ময়লাসহ নানা প্রকার নোংরা। সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গার পৌরবাসী পানির সমস্যায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
জানা যায়, গত ৩-৪ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কবরী রোড পাড়ায় পানি সংকটের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের বাড়িসহ পাড়ার কারোর বাসায় ৩-৪ দিন যাবৎ পানি নেয়। কোনো প্রকার মাইকিং, পূর্ব ঘোষণা ছাড়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে পৌরসভা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘পৌরসভার পানি সুপারকে ফোন দিয়েও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই আমরা ঠিকাদারের মাধ্যমে মিস্ত্রি নিয়ে এসে পানির লাইন ঠিক করেছি।’ একটা এলাকায় ৩-৪ দিন ধরে পানি না থাকায় কবরী রোড এলাকার অনেক বাড়ির মহিলারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সংলগ্ন অবস্থিত একটি টিউবওয়েল থেকে পানি নিতেও দেখা যায়। এই এলাকার কয়েকটি পরিবার ক্ষোভে পৌরসভার পানির সংযোগ নতুন করে আর নেয়নি, তাঁরা মোটর কিনে পানির চাহিদাও মেটাচ্ছেন বলেও জানা যায়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভও দেখা যায়।
এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পানি সুপার মো. সাহিদুর রহমান জানান, নতুন পানির লাইন সংযোগ করতে হলে দুই-তিন দিন সময় লাগে। ওই পাড়ার সব পানির লাইন ঠিক করা হয়েছে। আর দুই-একটা বাকি আছে, সেগুলো আজকের মধ্যেই ঠিক করা হবে। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য পৌরসভা থেকে নোটিশ জারি করা হয়, কিন্তু এ পাড়ায় পানি বন্ধের আগে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না এমন কোনো নোটিশ জারি করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় তিনটি ওভারহেড পানির পাম্পের মাধ্যমে পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটানোর কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পৌরসভায় মোট ১০টি পানির পাম্প চালু রয়েছে। আরও পাঁচটি পাম্প চালুর অপেক্ষায়। পৌরসভার মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার নাগরিকের জন্য প্রতিদিন পানির চাহিদা ৭৮ লাখ লিটার। সেখানে পৌর কর্তৃপক্ষ শতভাগ চাহিদার মাত্র ৫৫ ভাগ সরবরাহ টার্গেট নিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে।
কমেন্ট বক্স