বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৬-২০২০ ইং
বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের
পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলা নয়, শুধুমাত্র দর্শনার দুটি এলাকা রেড জোন নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গার দুটি এলাকাসহ দেশের ১০টি জেলার ২৭টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। গত রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রজ্ঞাপনে চুয়াডাঙ্গার শুধুমাত্র দুটি এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত হলেও ভ্রান্ত ধারনা এবং সঠিক তথ্য ভালোভাবে না বোঝার কারণে পুরো জেলাকেই রেডজোন মনে করছেন অনেকেই। এ নিয়ে বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্য জানার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধুমাত্র চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরানপুর গ্রামের রিফিউজি কলোনি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের থানা পাড়া এলাকাকেই রেড জোন ঘোষণা করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের অতিঝুঁকিতে থাকায় রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে দেশের ১০ জেলার ২৭ এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, যশোর ও মাদারীপুরের ২৭টি রেড জোন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, রেড জোন ঘোষিত এলাকায় বসবাসরত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে। এই ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া রেড জোন ঘোষিত এলাকায় অবস্থিত সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত ও অন্য এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ছুটি প্রযোজ্য হবে। সাধারণ ছুটি চলাকালে এসব এলাকার লোকজনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া জরুরি পরিসেবা এ সাধারণ ছুটির বাইরে থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী এসব এলাকায় ২১ জুন থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাধারণ ছুটি থাকবে। কোন কোন রেড জোনে কোন ২১ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, আদেশে তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা বা জেলার কোন অংশ কীভাবে রেড জোন হিসেবে লকডাউন করা হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, বিভ্রান্ত হবার কারণ নেই। নির্দেশনাটি সঠিকভাবে জানতে হবে। পুরো জেলা রেড জোন নয়। চুয়াডাঙ্গার দুটি এলাকাকে রেড জোন চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়েছে। শুধুমাত্র দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরানপুর গ্রামের রিফিউজি কলোনি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের থানা পাড়া এলাকাকেই রেড জোন ঘোষণা করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেটি ১৭ জুন থেকেই কার্যকর ছিল। সেখানে ২১ দিন ধরে ৮ জুলাই পর্যন্ত রেড জোন এবং লকডাউন থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা আসলে ওই এলাকার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের কাছে ওই এলাকার সাধারণ ছুটি কার্যকরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ আছে, সেগুলি এখন এমনিতেই বন্ধ। আর সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তবে প্রজ্ঞাপনে যেরকম নির্দেশনা আছে, সেরকমই বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, লকডাউন করা ওই দুটি এলকায় প্রশাসন সব সময় কড়া নজর রাখছে। কঠোরভাবে লকডাউন পালন করা হবে। ইতিমধ্যে ১৭৩টি পরিবারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের খাবারের প্রয়োজন হবে, একটি কল দিলেই তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। এই ২১ দিনের সম্পূর্ণ খাবারই তাদের দেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এখন প্রয়োজন আরও বেশি সচেতন হওয়ার। স্বাস্ত্যবিধি মেনে চলতে হবে। কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড (লাল), অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়েলো (হলুদ) এবং একেবারে কম আক্রান্ত বা আক্রান্ত মুক্ত এলাকাকে গ্রিন (সবুজ) জোন হিসেবে চিহ্নিত করছে সরকার। রেড জোনকে লকডাউন করা হচ্ছে, সেখানে থাকছে সাধারণ ছুটি। ইয়োলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে, সেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’