বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিধ্বস্ত সড়কে বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগে শহরবাসী!

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৬-২০২০ ইং
বিধ্বস্ত সড়কে বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগে শহরবাসী!
রুদ্র রাসেল: বর্ষা মৌসুমের শুরুতে অল্প বৃষ্টিতেই চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রাস্তায় পানি জমে থাকছে। জলাবদ্ধতার নিচের খাল-খন্দ ধারণা করতে না পারায় বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। এ ছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় ও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এসব সড়কে কাঁদা-পানি জমে থাকায় পথচারীরাও পড়ছে চরম বিপাকে। বছরের পর বছর ধরে এই শহরের বাসিন্দাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে আছে কাদাপানির দুর্ভোগ। এতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পানি আর জলাবদ্ধতায় নাকাল পৌর এলাকার মানুষ। নেই পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় বেশিরভাগ এলাকা ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে। যত্রতত্র ফেলা হয় আবর্জনা। এ চিত্র চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সর্বত্র চোখে পড়বে। সরেজমিন দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কোর্ট মোড় থেকে শান্তিপাড়া সড়ক, আত্মবিশ্বাসের গলি, সিনেমা হল পাড়া, মুক্তিপাড়া সাত ভাই পুকুর এলাকাসহ শহরের প্রায় প্রতিটি সড়কের ইট-পাথর-খোয়া উঠে গিয়ে বেহাল অবস্থা। বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গতকাল মঙ্গলবার সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। শুধু বৃষ্টির পানিই নয়, সড়কের আশে-পাশের নর্দমার নোংরা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরেও দিনের পর দিন থেকে যাচ্ছে সেই জলাবদ্ধতা। এদিকে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গাতে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ৮ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৫ মিলিমিটার। মৌসুমের বায়ুর প্রভাবে আজ বুধবার থেকে আগামী তিন দিন বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আভাস দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সংবাদে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এমনিতেই সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে থাকতে হয় শহরবাসীর। এরপর আবারও যদি টানা প্রবল বর্ষণ হয়, তাহলে তাঁরা চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন। `` চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়ার সাত ভাই পুকুর সংলগ্ন বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই গুরত্বপূর্ণ এ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আর এ জলাবদ্ধতার কারণে তাঁদের যাতায়াতের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনই এ রাস্তা দিয়ে চলাচলের একেবারে অযোগ্য। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলে আসলেও পানি নিষ্কাশন কিংবা রাস্তাগুলো সংস্কারে পৌরসভার পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এক ইজিবাইক চালক জানান, জলাবদ্ধতার কারণে ইজিবাইক চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গাড়ির ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশে পানি ঢুকে যাওয়ায় নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া অনেক জায়গায় পানির নিচে বড় বড় গর্ত থাকে। সেগুলো বুঝে ওঠতে না পারায় গাড়ি উল্টে যায়। ফলে কয়েকদিন পরপর গাড়ির ব্যাটারি, চাকাসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত করতে হচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় যানজটের দেখা দেয়। চুয়াডাঙ্গা শান্তিপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এমনিতে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটির বেহাল দশা। তারপর আবার সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও রাস্তা খাল-খন্দে ভরা। তাই এই রাস্তায় কোনো যানবাহনেই আসতে চায় না। সিনেমা হলপাড়ার এক বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, শহরের প্রায় প্রতিটি সড়কের দুরবস্থা বর্ণনাতীত। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, রাতের বেলায় চলাচল করতে গেলেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব সড়কে চলাচলকারী অসুস্থ ব্যক্তিদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এতে বিশেষ করে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল চালকদের পড়তে হয় দুর্ঘটনার কবলে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’