বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম মেলেনি

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৬-২০২০ ইং
চাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম মেলেনি
চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধার হওয়া সরকারি ১২৬৬ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় তদন্ত নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধার হওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার ১২৬৬ বস্তা (৩৭ হাজার ৯৮০ কেজি) সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে পৃথক তদন্ত কমিটি দুই জেলা প্রশাসকের নিকট তদন্ত রিপোর্ট করে। গত ৮ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের নিয়ে শুনানি করে। শুনানি শেষে গতকাল সোমবার তদন্ত কমিটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের নিকট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রির্পোটে বলা হয়েছে এ ঘটনায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কাবিখার নীতিমালা অনুযায়ী কাবিখা প্রজেক্টে সরকারি কাজের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হলে চালের ৬০-৭০ শতাংশ বিক্রয় করা যায়। সে হিসেবে ওই চাল বিক্রি শেষে ক্যাশ টাকা প্রজেক্টের সরকারি কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে। তাই কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের নিয়ে গত বুধবার থেকে শুনানি করছে। শুনানি শেষে গতকাল তদন্তের রিপোর্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকারের নিকট জমা দিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় উদ্ধারকৃত মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার ১২৬৬ বস্তা বা ৩৭ হাজার ৯৮০ কেজি সরকারি চাল জব্দে চুয়াডাঙ্গার দুই ব্যবসায়ী গৌতম শাহা, অশোক শাহা, গোডাউন মালিক নজরুল ইসলাম, মেহেরপুরের মঈনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতিদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়। পরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে শুনানি করা হয়। শুনানিতে বেরিয়ে আসে, কাবিখার নীতিমালা অনুযায়ী কাবিখা প্রজেক্টে সরকারি কাজের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন হলে চালের ৬০-৭০ শতাংশ বিক্রয় করা যায়। সেই বিধান অনুযায়ী বিক্রিত চালের সমপরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্পেই ব্যয় করা হয়েছে মর্মে প্রতিয়মান হয়। সুতরাং এই তদন্তে সম্পূর্ণরুপে কোনো প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। সেখানে বলা হয়েছে, কাবিখার নীতিমালা অনুযায়ী পাকা কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রি করা যেতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁরা নীতিমালা মেনেই চাল বিক্রি করেছেন এবং সরকারি কাজেই সেই নগদ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি।’ অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় জব্দকৃত মেহেরপুর গাংনী উপজেলার খাদ্যগুদামের ১২৬৬ বস্তা সরকারি চাল বিক্রিতে অনিয়ম হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে মেহেরপুর জেলা তদন্ত কমিটি। গতকাল সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌফিকুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বরাবর তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি ৯ জন প্রকল্প সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেন। তদন্ত প্রতিবেদনের সার্বিক মন্তব্য সুপারিশসমূহে বলা হয়েছে, অত্র তদন্ত কমিটি শুধুমাত্র সরকারি চাল বিক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করা হয়। গৃহীত প্রকল্প বাস্তবে রয়েছে কি না, অথবা সঠিকভাবে প্রকল্প গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করা কমিটির কার্যপরিধির আওতায় ছিল না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক সরবরাহকৃত সকল তথ্য-উপাত্ত প্রকল্প কমিটির সভাপতিদের বক্তব্য এবং বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করা হয়। সার্বিক বিবেচনায় প্রতীয়মান হয় যে প্রকল্প বাস্তবায়নে, প্রকল্প সভাপতিগণের প্রকল্প কমিটির সদস্যদের এবং স্থানীয় উপকারভোগীদের অবগত করার বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সে কারণে জনমনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত চালের ৬০% ভাগ বিক্রি করে নগদায়ন করার সুযোগ রয়েছে এবং প্রকল্প সভাপতিগণ স্বীকার করেছেন যে তাঁরা বিক্রয় করেছেন, যা আইনসিদ্ধ। তবে প্রকল্পসমূহ যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং কোনো অনিয়ম যেন না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় জব্দকৃত মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার খাদ্যগুদামের ১২৬৬ বস্তা চালের বিষয়ে তদন্তে উপস্থিত প্রকল্প সভাপতিগণের বক্তব্য, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্তী ও গাংনী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে চুয়াডাঙ্গা জেলায় আটককৃত চাল গাংনী খাদ্যগুদাম থেকে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা খাদ্যশস্য) কর্মসূচির আওতায় (১ম পর্যায়) সংসদ সদস্যের অনুকূলের নন সোলার খাতে খাদ্যশস্য (চাল)-এর আওতায় অনুমোদিত ও ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে হতে ৯ প্রকল্পের অনুকূলে ছাড়কৃত চাল। উক্ত প্রকল্পসমূহের বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উল্লেখিত ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে মোট ১১২,৫৫৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-খাদ্যশস্য) নগদ টাকা কর্মসূচি নির্দেশিকা ২০১৪-এর ৩ (ঙ), (চ) অনুযায়ী পর্যালোচনা করে দেখা যায় বর্ষণের ফলে নির্মিত রাস্তার মাটি যাতে সরে যেতে না পারে, তার জন্য রাস্তার উভয় দিকে পাকা ওয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রে এবং প্রয়োজনে এইচবিবি (ইটের রাস্তা নির্মাণ) করণের ক্ষেত্রে ৬০% ভাগ পর্যন্ত খাদ্যশস্য বিক্রয় করা যাবে। উক্ত প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ১১২, ৫৫৫ মেট্রিক টনের ৬০% ৬৭,৫৩৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নগদায়ন করার সুযোগ রয়েছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে। আর এর মধ্যে দিয়ে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় যে চাল চুরির অভিযোগ ওঠে, সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মূলত প্রকল্পের চাল বিক্রি করে নগদায়ন করে ইট, বালু ও নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করবে। উল্লেখ্য, গত রোববার গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের সাতগাড়ী এলাকার দুটি গোডাউনে সরকারি চাল ট্রাকযোগে আনলোড করা হয়। এর মধ্যে একটি গোডাউনে ৬০০ বস্তা ও অপরটিতে ৬৬৬ বস্তা মজুদ করে রাখা হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তার বাহ্যিক অংশে লেখা রয়েছে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদপ্তরের একটি টিম গোডাউন দুটিতে অভিযান চালায়। এ সময় জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদপ্তরের যৌথ টিমটি সরকারি ১২৬৬ বস্তা চাল জব্দ করেন। একই সঙ্গে দুটি গোডাউন সিলগালা করে। তাৎক্ষণিক তদন্তে বেরিয়ে আসে, এই চাল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার ১২৬৬ বস্তা বা ৩৭ হাজার ৯৮০ কেজি। এ ঘটনা অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। এই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’