বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ট্রলিতে পাঁচটি গাছের লগ, উত্তেজিত গ্রামবাসীর বাঁধা!

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৬-২০২০ ইং
ট্রলিতে পাঁচটি গাছের লগ, উত্তেজিত গ্রামবাসীর বাঁধা!
৬২নং আড়িয়ায় দর্শনা কেরুজ বাণিজ্যিক খামারের গাছ নিয়ে দিনভর নানা কাণ্ড! দর্শনা অফিস/হিজলগাড়ি প্রতিনিধি: দর্শনা কেরুজ বাণিজ্যিক খামারগুলি নিয়ে যেন অভিযোগের অন্ত নেই জেলাবাসীর কাছে। বিভিন্ন সময় প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় হরিলুটের খবর প্রকাশ পায় বাণিজ্যিক খামারের উৎপাদিত সাথী ফসল (আলু, মসুরি, কুমড়ো, বিভিন্ন গাছপালা)। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে স্থানীরা। এ ধারাবাহিকতাই গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফার্মের ম্যানেজারের সহযোগিতায় ৬২ আড়িয়া বাণিজ্যিক খামারের ইনচার্জ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে। দিনে-দুপুরে চুরিকৃত গাছ পাওয়ারট্রিলারের ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তা আটক করে স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এরই মধ্যে ফার্মের ইনচার্জ মনজুরুল সরাসরি অনুমোদন নয়, গত দুই মাস আগের এমন একটি সম্মতিপত্র নিয়ে হাজির হন ঘটনাস্থলে। তবে সম্মতিপত্রে চারটি মরা গাছের নিচের অংশের কথা উল্লেখ থাকলেও পাওয়ারট্রলির ট্রলিতে পাঁচটি গাছের লগ থাকায় পুলিশের অনুরোধে পুনরায় গাছগুলি সংশ্লিষ্ট খামারে ফেরত পাঠানো হয়। জানা যায়, ২০১৯-২০ মাড়াই মৌসুমে দর্শনা কেরুজ চিনিকলের আওতাধীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ৬২ আড়িয়া বাণিজ্যিক খামারের বেশ কিছু মরা গাছ কর্তন করে মিলের ব্রয়লারে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে কর্তনকৃত চারটি গাছের নিচের অংশ মাটিতে পড়ে থাকায় গত ৪ এপ্রিল ফার্মের ইনচার্জ মঞ্জুরুল ইসলাম ফার্মের প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিল তৈরির জন্য অনুমোদন চান ফার্মের ম্যানেজার আমিনুল ইসলামের নিকট। উক্ত অনুমোদনপত্রে ফার্মের ম্যানেজার সরাসরি সুপারিশ করলেও অনুমোদনপত্রে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আলী আনছারী ৮ এপ্রিল সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেন। বিগত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাক্ষরিত সেই সম্মতিপত্রের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওই খামারের বেশকিছু নিম এবং মেহগনি গাছ ফার্মের শ্রমিক রেজাউল, কালাম, করিমউদ্দিন, লাল্টুসহ কয়েকজন পাওয়ারট্রিলারের ট্রলিতে তুলে দেন ‘স’ মিলে নেওয়ার জন্য। এ সময় পাওয়ারট্রিলার চালক ছোট শলুয়া গ্রামের মহিরদ্দিনের ছেলে মজিবুল আড়িয়া গ্রামের ঈদগাহের নিকট পৌঁছালে উৎসুক গ্রামবাসী তা আটকে দেয়। এ ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীসহ শতাধিক মানুষ ভিড় জমান ঘটনাস্থলে। এ সময় স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফার্মের ম্যানেজার আমিনুল ইসলামের সহযোগিতা আছে বলেও অভিযোগ তোলেন। তা ছাড়া গত দুই মাস আগে যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক উক্ত কাজে সম্মতি প্রকাশ করেন, দুই মাস পরে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোনো অনুমোদনপত্র না থাকায় বিষয়টি আরও ধুম্রজালের সৃষ্টি করে স্থানীয়দের মনে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, গাছগুলো ফার্মের ইনচার্জ নিজের কাজে ব্যবহারের জন্য চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে চিনিকলের লোকজন এবং তিতুদহ ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আড়িয়া ফার্মের কর্মরত কয়েকজন জানান, চিনিকলের গাছ নিয়ে যেতে হলে চিনিকলের ট্রাক্টর রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানা পাওয়াট্রলিতে গাছগুলো ফার্মের কাজে আদৌও ব্যবহার হত কি না, রীতিমতো সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া একই সম্মতিপত্র দেখিয়ে আবার একাধিকবার গাছ নেওয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে ফার্মের ইনচার্জ মঞ্জুরুল ইসলাম কথার সদুত্তর না দিয়ে প্রথমে জানান, ‘আমি গাছগুলি ফার্মের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলাম।’ আবার কিছুক্ষণ পরে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের নির্দেশে ফার্মের কাজের জন্য গাছগুলি তিতুদহ ‘স’ মিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ বিষয়ে ফার্মের ম্যানেজার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পাওয়ারট্রিলারের সঙ্গে চালান কপি ছিল না। পরে ব্যাকডেটের চালান কপি নিয়ে আসলে ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে চিনিকলের অফিসারদের জিম্মায় গাছগুলো দিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি গাছ সরানোর বিষয়টি শুনেছি। শোনার পর ঘটনাস্থলে কিছু কর্মকর্তা গিয়েছে। তাঁরা আমাকে ঘটনার বিষয়ে অবগত করার পর আগামীকাল (আজ) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’