বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গাংনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী কানা লাল্টু কুষ্টিয়ায় গ্রেপ্তার

  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০৬-২০২০ ইং
গাংনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী কানা লাল্টু কুষ্টিয়ায় গ্রেপ্তার
গাংনী অফিস: গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নে এক সময়ে ব্যাপক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রাত হলেই ডাকাতির আতঙ্কে থাকত ওই এলাকার মানুষ। একের পর এক ডাকাতিতে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে এলাকার সাধারণ জনগণ। অবশেষে এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেয় যেভাবে হোক এ ডাকাত দলের নেতাকে আটক করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ। কয়েকদিনের মধ্যে ধরা পড়ে গাংনীর আলোচিত ডাকাত প্রধান লাল্টু। তিনি গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের ছেলে। সে সময়ে জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন লাল্টু। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয় তাঁকে পুলিশে দিলে আবার ফিরে এসে ডাকাতি করবে, তাই ডাকাতি বন্ধে স্থানীয় জনতা তার দুটি চোখ তুলে নেয়। সেই থেকে তাঁর নাম হয় লাল্টু কানা। এই শীর্ষ সন্ত্রাসী লাল্টু কানা হয়েও অপরাধ জগত থেকে সরে আসেনি। অপরাধ চালিয়ে গেছেন নানা কৌশলে। আর এভাবে ডাকাতির দল ছেড়ে দিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসাসহ নানারকম অপকর্মের প্রধান হয়ে কাজ করে আসছেন। তবে সে নিজেকে এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। সর্বশেষে গাংনীর কাজিপুরে লিচুবাগান দখলকে কেন্দ্র করে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটায়। অবশ্য ঘটনায় আর শেষ রক্ষা হলো না লাল্টু কানার। জোড়া খুনের ঘটনায় কাজিপুরে ইসমত কবির ডাবলু হত্যা মামলার আসামি লাল্টু কানাকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বেলা দুইটায় কুষ্টিয়া জেলার প্রাগপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর নামে গাংনী ও মিরপুর থানায় ৬টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান জানান, কাজিপুর গ্রামের খবির উদ্দীনের ছেলে ইসমত কবির ডাবলু হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি লাল্টু কানা প্রাগপুর এলাকায় অবস্থান করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর নামে গাংনী থানায় হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির ৫টি ও মিরপুর থানায় মাদকের একটি মামলা রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, মামলার পর থেকে লাল্টু কানা পলাতক ছিলেন। তিনি কাজিপুর ও পার্শবর্তী দৌলৎপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। ২০১২ সালে সাহেবনগর তালতলা এলাকায় বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী চামচ দিয়ে তাঁর চোখ তুলে নেয়। তারপরও বহু অপকর্ম করলেও অন্ধের কারণে বিভিন্ন সময়ে পার পেয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ইসমত কবির ডাবলু হত্যার মূল ইন্ধন ও হুকুমদাতা লাল্টু কানা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১৬ মে শনিবার সন্ধ্যায় গাংনী উপজেলার সাহেবনগর গ্রামে লিচু বাগান দখলকে কেন্দ্র হামলায় উভয় পক্ষের ইসমত কবির ডাবলু ও সানারুল হক নিহত হয়। এ ঘটনায় ইসমত কবির ডাবলুর মা ইসলামা খাতুন বাদী হয়ে কাজিপুর ইউপি সদস্য হাবিবকে ১ ও লাল্টু কানা ২ নম্বর আসামি করে ১০ জনসহ অজ্ঞাত নামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে মামলা নং ১৬ তাং ১৭.০৫.২০ ও সানারুল হক নিহতের ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে ইসমত কবির ডাবলু ও তার পিতা খবিরের নামে হত্যা মামলা দায়ের করে, যার নং ১৭।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’