বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি!

  • আপলোড তারিখঃ ০২-০৬-২০২০ ইং
উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি!
চুয়াডাঙ্গার সড়কে শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল, ভাড়া ৬০ শতাংশ বেশি অবৈধযানের কারণে নেই অর্ধেক যাত্রীও, হচ্ছে লোকসান বলছেন বাস মালিকেরা নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। গতকাল সোমবার থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব পরিবহন পরিচালনা করার নির্দেশনা থাকলেও তার পুরোপুরি পালন করতে দেখা যায়নি। তবে চুয়াডাঙ্গায় বাসের আসন ফাঁকা রাখার যে নির্দেশনা ছিল, সেটি পালন করতে দেখা গেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি পালন হচ্ছে কি না, সেটি দেখার জন্য জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কমিটি নজর রাখছিল। চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকালে সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার থেকে পরিবহনে মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে বাসযাত্রীদের উঠতে দেখা গেছে। এ সময় মাঝে মাঝে পরিবহনে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটাতে দেখা গেছে। এছাড়াও পরিবহনগুলো বের হওয়ার আগেই জীবাণুমুক্ত করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। জানতে চাইলে চালকের সহযোগী আমির বলেন, ‘গতকালই আমরা আমাদের সব বাস জীবাণুমুক্ত করেছি। যাত্রীদের আমরা ধীরে বাসে উঠাচ্ছি এবং নামাচ্ছি। পাশাপাশি দুটি সিটে কাউকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।’ একাডেমি মোড় থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া পরিবহনগুলোতেও যাত্রী সংখ্যা কম। এই এলাকার পরিবহন শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষও খুব বেশি পরিবহনে উঠছে না। যাদের একান্ত প্রয়োজন, তারাই গণপরিবহন ব্যবহার করছেন। এদিকে, আনোয়র হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই বাসে উঠেছি। আসলে যেসব স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। যেখানে ঘন ঘন আসনগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করার দরকার, সেখানে দিনে একবারও করা হচ্ছে কি না, সন্দেহ রয়েছে।’ তবে বাসচালকদের অভিযোগ, সিএনজি বা ইজিবাইকে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই অনেক যাত্রী উঠানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ সেগুলোতে চলাচল করায় পরিবহনে যাত্রী সংখ্যা একেবারে নেই বললেই চলে। বাসচালক আলী বলেন, ‘যাত্রী কম। আমরাও মানুষকে ডাকাডাকি করে পরিবহনে তুলছি না। মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করছি। বাসের ফাঁকা ফাঁকা স্থানে বসতে অনুরোধ করছি। যাদের মুখে মাস্ক নেই, তাদের উঠতে দিচ্ছি না।’ একটি বাসের হেলপার কামাল বলেন, ‘এখন বাসে এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রীদের নিয়ে যাতায়াত করছি। কিন্তু বেশিরভাগ পরিবহনে দেখা যাচ্ছে যাত্রী নেই। স্বাস্থবিধি মেনে যেখানে ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়ার কথা, সেখানে ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে আমাদের বেতন দিতে মালিকদের হিমশিম খেতে হবে। তাদের পকেট থেকে আমাদের বেতন দিতে হবে।’ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আলী রেজা সজল বলেন, ‘আজকের (গতকাল) সার্বিক পরিস্থিতি অনেক ভালো। যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি পালনের চেষ্টা করেই পরিবহন চলেছে। দূরপাল্লার গাড়িগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানো হচ্ছে। আমি এবং পরিবহন মালিকেরা সবস্থানেই তদারকি করেছি। তবে সিএনজি এবং ইজিবাইক স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গাড়ি চালাচ্ছে। এতে করে আমাদের পরিবহনে যাত্রী হচ্ছে না। এতে সব খরচ বহন করা সম্ভব না।’ পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মইনুদ্দিন মুক্তা বলেন, ‘ইজিবাইকে ঠাসাঠাসি করে চালকসহ ৯ জন এবং সিএনজিতে চালকসহ ১১ জন করে যাত্রী নিয়ে চলছে। যেখানে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কম যাত্রী নিয়ে পরিবহন চালাচ্ছি, সেখানে তারা একটুও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এখানে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের। কারণ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নিয়ে অর্ধেক যাত্রী নিচ্ছি আমরা। আর ওরা ভাড়া আগের মতোই নিচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধির কিছুই মানছে না। এতে যেমন করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে, ঠিক তেমনি সাধারণ যাত্রীরা ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি না দিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই সিএনজিতে উঠছে। যাতে করে, আমরা যাত্রী পাচ্ছি না। এভাবে চললে আমরা গাড়ি পরিচালনা করতে পারব না। আমাদের অনেক বেশি লোকসান হবে।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এ নাসির জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘অবৈধ যানের কারণে আমাদের যাত্রী হচ্ছে না। ইজিবাইক ও সিএনজি স্বাস্থ্যবিধি কিছুই মানছে না। অনেক বেশি যাত্রী নিচ্ছে তারা। যেখানে আমরা নিয়ম মেনে সামাজিক ও শারীরিক দূরুত্ব মেনেই অর্ধেক যাত্রী উঠাচ্ছি। এতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নিচ্ছি আমরা। কিন্তু ইজিবাইক সিএনজি ও পাখিভ্যান আগের ভাড়া নিচ্ছে। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে ঝুঁকি আছে। এখন এ বিষয়ে প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা পরিবহন চালাতে পারব না। আমাদের অনেক বেশি লোকসান হবে। প্রশাসনের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।’ এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সবাইকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়ি পরিচালনা করতে হবে। পরিবহন মানবে আর বাকিরা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, সেটাতে লাভ হবে না। যাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না ছড়াই, সে বিষয়ে ভেবেই সরকারি এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন অবস্থায় কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি এ বিষয়ে পুলিশ সুপার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেব। অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যেই অফিস খোলা ও গণপরিবহন সীমিত আকারে চলাচলের সরকারি সিদ্ধান্তের পর বাসের ভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএ-এর ওই সুপারিশকে গণবিরোধী উল্লেখ করে চলা সমালোচনার মধ্যেই গত রোববার বিআরটিএ-এর সুপারিশের মাত্র ২০ শতাংশ কমিয়ে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার বর্ধিত ভাড়ায় সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চআদালতে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’