করোনায় পরিবর্তন আসছে প্রাথমিক শিক্ষায়
- আপলোড তারিখঃ
২০-০৫-২০২০
ইং
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো আগামী ৬ জুন পর্যন্ত ছুটিতে রয়েছে। এই ছুটির পর সারাদেশের শিশু-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরে গিয়ে নতুন পরিবেশের মুখোমুখি হবে। এই নতুনত্ব আসবে শ্রেণিকক্ষে, পরিবর্তন আসবে পাঠপ্রদানের ধরনে, বাড়বে রিমোট লার্নিং। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে শিশুরাও আগের মতো একসঙ্গে দলবেঁধে শ্রেণিকক্ষে যেতে পারবে না। সব মিলিয়ে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে বৈশ্বিকভাবে ‘নিউ নরমাল’ নিয়ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর এর পূর্ণাঙ্গ চিত্রপট কেমন হবে তা নিয়ে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন গাইডলাইন। যে নির্দেশনার আলোকে শিশুদের শ্রেণিকক্ষে আসবে ‘নিউ নরমাল’ নিয়ম। যেগুলোকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে নিরাপদে স্কুল কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী মধ্য জুন নাগাদ পুরো গাইডলাইন প্রস্তুত হয়ে গেলেই বিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘আমরা একটি রিকভারি প্ল্যান করেছি। বন্ধ থাকার মেয়াদ বাড়াতে না হলে এই পরিকল্পনা ধরে আমরা এগোবো। আর যদি অবস্থার উন্নতি না ঘটে, তাহলে এটাকে আমরা রিভিউ করে নতুন একটা প্ল্যান তৈরি করতে হবে। এটা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কাজ করছে।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তথ্য মতে, প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে সারাদেশে দুই কোটি নয় লাখ ঊনিশ হাজার দুইশ’ একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বাংলাদেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৯৯টি। এর বাইরে কওমি মাদ্রাসাগুলোতেও প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে প্রায় পঁচিশ লাখ শিশু-শিক্ষার্থী রয়েছে বলে, বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে। এই শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও উদ্যোগ নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারি কবে শেষ তা নিয়ে কথা বলা অনিশ্চিত হওয়ায় স্কুলগুলোকে পুনরায় খোলার আগে বেশ কয়েকটি বিষয়কে বিবেচনায় রাখতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, শিশুর স্বাস্থ্য। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় সবরকম স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিশুদের স্কুলগামী করা; গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী জুন অব্দি পড়াশোনায় যে ঘাটতি হয়েছে, তা রিকভার করা; রিকভারের পদ্ধতি কী হবে, তা ঠিক করা; শ্রেণিকক্ষ, পরিবহন, স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা; ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার, ঘন ঘন তাপমাত্রা চেকাপ, বারবার হাত ওয়াসহ সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি শিশুদের বুঝিয়ে দেওয়া। বিশেষ করে, আগামীতে স্কুলগুলো খোলার পর শিক্ষার্থীরা আর আগের পরিবেশ দেখবে না, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাদের প্রস্তুত করা। একই সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচয় করানো। নিরাপদ স্কুল পরিচালনা নিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ইউনিসেফ (বাংলাদেশ)।
কমেন্ট বক্স