বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সুপার সাইক্লোন: পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে ধেয়ে আসছে আমফান

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৫-২০২০ ইং
সুপার সাইক্লোন: পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে ধেয়ে আসছে আমফান
উপকূলীয় এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত সমীকরণ প্রতিবেদন: ‘সুপার সাইক্লোন স্টর্ম’ বা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে আমফান। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটি প্রবল গতিবেগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার শেষ রাতে খুলনা এবং চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগের ওপর আঘাত হানবে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও এসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে ভারি বর্ষণসহ ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ার আভাস দেয়া হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১২ হাজার আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হবে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে ঘূর্ণিঝড় আসার আগেই ২০ থেকে ২১ লাখ লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ সাত নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আমফান ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে সাগরে প্রচুর শক্তি অর্জন করছে এটি এখন সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নানের ভাষ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আমফান সোমবার রাতেই সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়ার কথা। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে সুন্দরবন অংশ দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির মূল অংশ দেশের সীমানায় আঘাত করতে পারে। ঝড়ের মূল অংশ সুন্দরবন অংশে আসলেও এর প্রভাব পড়বে চারদিকেই। তবে এখনও বেশি দূরে অবস্থানের কারণে এর গতিপথ পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন ঝড়টি ভারতের দীঘা থেকে বাংলাদেশের সন্দ্বীপ এলাকার মধ্য দিয়ে যাবে এবং এর মূল অংশ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের সুন্দরবন অংশে আসবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপার সাইক্লোনে রূপ নিলে এই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ২২০ থেকে ২৬৫ কিলোমিটার। তবে উপকূলের কাছাকাছি আসতে আসতে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তখন বাতাসের এই গতিবেগ কিছুটা কমে যেতে পারে। এটি ইতোমধ্যে ব্যাপক শক্তি অর্জন করে ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। করোনা মহামারীর মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত অনেকটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে। তরে এটি মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আজ মঙ্গলবার বিকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া শুরু হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করেছে। গর্ভবতী নারী, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হবে। এরপর অন্যদের নেয়া হবে। ইফতারের পর থেকে পুরুষদের নেয়া হবে। তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হবে। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ আসায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করা হবে বলে। তিনি বলেন, একেকটি পরিবারের সদস্যরা যাতে একসঙ্গে থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের পাঁচ হাজার আশ্রয় কেন্দ্রে ২১ লাখের মতো মানুষকে রাখা যায়। এখন ওইসব এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নেয়া হচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে। ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখতে কোন সমস্যা হবে না। এদিকে আবহাওয়া অফিস থেকে প্রতিনিয়ত সতর্কতার পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার বেলা তিনটায় জারি করা বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে বর্তমানে পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজারা ১৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে আজ মঙ্গলবার শেষরাত হতে বুধবার বিকাল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানায় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১০ কিমি। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেতের আওতায় থাকবে। অপরদিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার শেষ রাত থেকে এটি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করবে। বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ স্থলভাগের ওপর দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে। ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রমণের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির পর থেকেই সারাদেশে এক ধরনের গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার পর থেকে গরমের মাত্রা ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে। প্রচ- গরমে রাতে ঘুমানো দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে তাপমাত্রা বেড়ে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির কারণে সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয়কণা বাতাসে মিশে যাচ্ছে। এই জলীয় কণা রোদে আরও গরম হয়ে পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে। এর ফলে দেশে বিভিন্নস্থানে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তারা জানিয়েছেন আজও সারাদেশের তাপমাত্রা বাড়বে। রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি নোয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা বরিশাল পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজও তা অব্যাহত থাকবে। এদিকে ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় আমফান এটি পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী কোন এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমফানের শক্তি কয়েকগুণ বাড়বে এবং সুপার সাইক্লোন স্টর্মের চেহারা নেবে। এই অতি শক্তিশালী ঘূির্ণঝড়ের ঘূর্ণনের গতিবেগ হতে পারে সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আমফানের আঘাতে সবচেয়ে বেশি, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সুন্দরবনের সমুদ্রসৈকত এবং উপকূলবর্তী এলাকায়। ঝড়ের তা-বে কাঁচা বাড়ি, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা যাতে না ঘটে তার আগাম সতর্কতা হিসেবে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আবহাওয়া অফিসের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলছেন, ঘূর্ণিঝড় আমফান যখন আঘাত হানবে তা অতি প্রবল হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বের অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট হয়। ঘরবাড়ি গাছ-পালার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিদ্যুত সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে। তবে বাংলাদেশের কোন কোন জেলার ওপর দিয়ে এই ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রস্তুতি : এদিকে মাঠে পেকে যাওয়া বোরো ধান যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে নষ্ট না হয়, সেজন্য দুর্যোগ শুরুর আগেই তা কেটে কৃষকের ঘরে তুলতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় মাঠে থাকা ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেয়ার জোর চেষ্টা চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় উপকূলীয় জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সিপিসি-এর মধ্যে বৈঠক হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে প্রথম যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় সেটি হচ্ছে সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা। এবার যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে কোভিড-১৯ এর কারণে, সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কে কোন আশ্রয় কেন্দ্রে যাবে তারও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ব্যবহার করা হবে এবং বাড়ির কাছে থাকা স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইক্লোন শেল্টারে যারাই আসুক তাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করার মতো ব্যবস্থা করতে হবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এর আগে দেশে ১৯৭০ সালের নবেম্বর মাসের ১২ তারিখে দেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হানে। এতে প্রচুর প্রাণহানিসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আবহাওয়া অফিসের হিসাব অনুযায়ী ওই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৪ কিলোমিটার। এরপর ১৯৯১ সালে দেশের উপকূলে আরও একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২২৩ কিলোমিটার। এরপর এই প্রথম কোন ঘূর্ণিঝড় সুপার সাইক্লোনে রূপ নিতে চলেছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় আমফান উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের জন্য ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ এনামুর রহমান। তিনি বলেন, আজ সকাল থেকে মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার কাজ শুরু হবে। সোমবার ঘূর্ণিঝড় আমফান মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এখন করোনা সংক্রমণের সময়, তাই প্রত্যেকটি আশ্রয় কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বলেছি। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আসবেন তাদের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী) ভলান্টিয়ারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তারা যেন আজ সকাল থেকে সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার কাজ করেন। এ কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কাজ করবে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুই হাজার ৫৬০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ‘একটি মানুষকেও যাতে প্রাণ হারাতে না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। যেসব মানুষ ঝুঁকিতে আছেন আজ সন্ধ্যার আগেই তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হবে। অন্য যে কোন দুর্যোগের থেকে এবার সব থেকে বেশিসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ কেন্দ্রে যারা আশ্রয় নেবেন তাদের জন্য তিন হাজার ১০০ টন চাল, ৫০ লাখ নগদ টাকা, শিশু খাদ্য কিনতে ৩১ লাখ টাকা, গোখাদ্য কিনতে ২৮ লাখ টাকা এবং চার হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে বলে জানান এনামুর রহমান। সিভিল সার্জনদের নেতেৃত্বে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ ওইসব টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুত গেলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এলজিইডিকে বলা হয়েছে, যেসব অঞ্চলের লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে সেসব অঞ্চলের সড়ক এবং ব্রিজে কোন সমস্যা হলে জরুরিভত্তিতে তা মেরামত করতে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কোন বাঁধ ভেঙে গেলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তা নির্মাণ করবে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’