বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মাঠপর্যায়ে ‘সিও’ এনজিওর কার্যক্রম শুরু, স্বাস্থ্যঝুঁকি!

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৫-২০২০ ইং
মাঠপর্যায়ে ‘সিও’ এনজিওর কার্যক্রম শুরু, স্বাস্থ্যঝুঁকি!
চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে লকডাউন উপেক্ষা রোকনুজ্জামান রোকন: চুয়াডাঙ্গায় করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই লকডাউন উপেক্ষা করে কার্যক্রম শুরু করেছে সামাজিক ঋণদানকারী সংস্থা ‘সিও’। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি সাধারণ ছুটির মধ্যেই অফিস খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাখা কর্মকর্তারা। তবে এক্ষেত্রে তাঁদের বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে (১) সরকারের নির্দেশনা ও প্রদত্ত অনুসরণ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে (মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস/হ্যান্ড ওয়াস) ব্যবহার করে সবাইকে ফিল্ডে গমন করতে হবে। (২) সংস্থা প্রদত্ত লিফলেট বিলি করা এবং উপকারভোগীদের মধ্যে আলোচনা করে সচেতন করতে হবে। তাছাড়া সদস্যদেরকে একত্রে জড়ো না করে কৌশল করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়িতে গিয়ে টাকা আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো সদস্যের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করে বিনয়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে টাকা আদায় করতে হবে। (৩) স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করতে হবে। যাতে করে সংস্থার কোনো সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়। (৪) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সংস্থার উপকারভোগীদের মধ্যে পতিত জায়গায় বিভিন্ন প্রকার আবাদ করার জন্য নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করতে হবে। (৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণের জন্য নির্দেশনা অনুসরণ করে ঋণ প্রদানের জন্য সদস্য নির্বাচন করতে হবে। অথচ এক্ষেত্রে মানাই হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। শুধুমাত্র মাস্ক মুখে দিয়ে এক মোটরসাইকেলে দুই-তিনজন করে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে। আর মাঠকর্মীদের এমন উদাসীন কর্মকাণ্ডের কারণে চরম ঝুঁকিতে আছেন অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাহক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত (১০ মে) রোববার থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলায় কার্যক্রম শুরু করেছে ‘সিও’। এরমধ্যে দামুড়হুদা উপজেলার রামনগর বাজার শাখা অন্যতম। সংস্থাটির একটি নির্দেশনায় যেখানে স্পষ্টভাবে ‘নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের থেকে রক্ষাকল্পে প্রতিষ্ঠান (সিও) কর্তৃক কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনায় করণীয়’ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ শাখাটির অধীনস্থ দুটি গ্রামে দুইজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে। এরপর থেকে গ্রাম দুটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আংশিক লকডাউন করা হয়। অথচ ‘সিও’র মাঠ কর্মীরা লকডাউন উপেক্ষা করে ওই সব গ্রামগুলোতেও তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকে একটি একটি করে কয়েকটি গ্রামে যেতে হচ্ছে তাঁদের। এ কারণে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে তাঁদের কার্যক্রম নিয়ে চিহ্নিত সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন মানুষেরা। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির আলোকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত কোনো এনজিও সংস্থা তাঁদের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করতে পারে না। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি একটি চিঠি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঋণ প্রদান, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিসহ কিছু কার্যক্রম নিয়ে সীমিত আকারে অফিস খুলতে পারবে। গতকাল সোমবার সকালে আমার সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি এনজিও সংস্থার আলোচনা হয়েছে। আমি তাদেরকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি।’ সিও’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে একটা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। শুধু আমরা না, সারা বাংলাদেশেই এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওই নির্দেশনার কপি স্ব স্ব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠিয়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করেছি। সদস্যদেরকে একত্রে জড়ো না করে কৌশল করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়িতে গিয়ে টাকা আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে জোর করে ঋণ আদায় করা যাবে না। কেউ যদি টাকা দেয় তবে সেটা নিতে হবে। কিন্তু কারো যদি সমস্যা থাকে, টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে সেখানে জোরজবরদস্তি করা যাবে না। তার টাকাটা অনাদায় রাখা হবে।’ মাঠকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মীদের মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস, স্যানিটাইজার ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছি। তারা যখন মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে যাবে অবশ্যই এগুলো ব্যবহার করবে। যখন কারো কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করবে, বিতরণ করবে তখন তো স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’