বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

লকডাউনে চুয়াডাঙ্গা : মধ্যবিত্তের চাপা কান্না!

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৪-২০২০ ইং
লকডাউনে চুয়াডাঙ্গা : মধ্যবিত্তের চাপা কান্না!
সমীকরণ প্রতিবেদন: মহামারি করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় সরকারি নির্দেশে ঘরে অবস্থান করছে মানুষ। এই সময়ে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। করোনার ছোবলে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশেও। এ পরিস্থিতিতে উচ্চবিত্তদের আরাম-আয়েশে দিন কাটলেও নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের দিন কাটছে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে। এরমধ্যে অনেক ব্যক্তি-সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায়, অসচ্ছলদের পাশে দাঁড়ালেও মধ্যবিত্তদের দু চোখে যেন ঘোর অন্ধকার। চরম অসুবিধায় থাকলেও কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। লোকলজ্জার ভয়ে তারা নীরবে-নিভৃতে চাপা স্বরে কাঁদছেন। তা দেখা বা বোঝার যেন কেউ নেই। চুয়াডাঙ্গা জেলায় বসবাসকারী বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই উঠে এসেছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন গলিতে জামা-কাপড়ের ব্যবসা করেন এমন এক ব্যবসায়ী জানান, এক ছেলে, দুই মেয়ে, স্ত্রীসহ পাচঁজনের সংসার তার। মহামারি করোনাভাইরাসের কারনে প্রায় মাসখানেক ধরে তাঁর দোকান বন্ধ। লকডাউনের এ সময় আত্মীয়-স্বজন থেকে কিছু সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এক মাস সংসার টেনে-টুনে চালালেও সামনের দিনগুলোতে অন্ধকার দেখছেন তিনি। জমানো টাকা যা ছিল, তাও শেষ। এ অবস্থায় কী করবেন, কী করা উচিত, ভেবে উঠতে পারছেন না তিনি। সংসার চালাতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। চক্ষু লজ্জায় কষ্টগুলো প্রকাশও করতে পারছেন না। শহরের এক কসমেটিকস দোকানি জানান, এই দোকানই তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস। এক মাস ধরে দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ। ১ বৈশাখ সামনে রেখে হাতের জমানো টাকা দিয়ে দোকানে নতুন মাল উঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেচাবিক্রি শুরু হওয়ার আগেই করোনার ছোবলে সব বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় আয়-রোজগার তো একেবারেই বন্ধ। হাতে যা ছিল, তা দিয়েও মাল কিনে দোকানে ওঠানো। এখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, একটি মোটরসাইকেলের শো-রুমে চাকরি করেন তিনি। এক মেয়ে, স্ত্রীসহ তিনজনে ভালোই ছিলেন। করোনার প্রাদুর্ভাবে শো-রুম বন্ধ। বেতনও বন্ধ। হাতে কিছু টাকা ছিল, তা দিয়ে কিছু বাজার করেছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে কঠিন অনিশ্চয়তায় পড়ে অন্ধকার দেখছেন চোখেমুখে। মধ্যবয়সী এক নারী জানালেন, মার্চের ১৫ তারিখ থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সে প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পেলেও মার্চ ও এপ্রিলের বেতনের কোনো সম্ভাবনাও নেই। শিগগিরিই এ পরিস্থিতি কেটে না গেলে সামনের দিনগুলো তাঁর জন্য ভয়াবহ হবে। এদিকে, জেলা প্রশাসকের হিসাব অনুযায়ী জেলার অতিদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করলেও এ জেলার নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণের হিসাব নেই। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানালেন, চুয়াডাঙ্গায় অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার। কিন্তু ইতিমধ্যে এ জেলায় ৭৪ হাজার ৩৫০ পরিবারের ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪ শ জনকে ত্রাণ প্রদান করা হয়েছে। যা অতিদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। কাজেই মানুষ ত্রাণ পায়নি, এটা সঠিক না। হতে পারে কেউ এড়িয়ে গেছে। ত্রাণের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার চিত্রটাও অভিন্ন। পৌরসভার মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু জানিয়েছেন, তিনি পৌরসভার প্রায় ১৯ হাজার কর্মজীবী মানুষের তালিকা করেছেন এবং ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া ত্রাণ ৫ হাজার ২২৪ জনকে বিতরণ করেছেন। ত্রাণ পেলে বাকি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে জেলার সমাজসেবক ও সচেতন ব্যক্তিরা জানান, যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা এ জেলার জন্য যথেষ্ঠ নয়। প্রতিদিন প্রচুর মানুষ খাদ্য-সংকটের কারণে ঘর ছেড়ে মানুষ রাস্তায় আসছে। এখনই খাদ্য-সহায়তা দিয়ে মানুষকে ঘরে আটকাতে না পারলে আগামী দিনগুলো ভয়াবহ হবে। মানুষ খাদ্য কেড়ে নেবে। চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই বেড়ে যাবে। আইনশৃঙ্খলারও অবনতি হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলে ত্রাণ এসেছে জিআরের ৯৮৩ মেট্রিক টন চাল ও বিশেষ নগদ অর্থ সহায়তা ৭ লাখসহ ৩৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫ শ নগদ টাকা। এই ত্রাণ থেকে জেলার চার উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে ৭৪৩ মেট্রিক টন চাল ও প্রায় ২২ লাখ নগদ টাকা। এছাড়া বর্তমানে শিশু খাদ্যে ক্রয়ের ৭ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি মোতাবেক চুয়াডাঙ্গা জেলার জনসংখ্যা ১১ লাখ ২৯ হাজার ১৫ জন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার অভিজ্ঞজনদের মন্তব্য, বর্তমানে এ জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৫৩ হাজার। প্রকৃত ভোটার ৮ লাখ ৫৩ হাজার হলে লোকসংখা প্রায় ১৬ লাখের ঊর্ধ্বে। এ হিসাবে জেলায় বর্তমান অতিদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নমধ্যবিত্ত মিলে এ করোনাভাইরাসের কারণে অভাবী মানুষের সংখ্যা চারগুন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ থেকে ৬ লাখ। এ বিশাল অভাবী জনগণের মুখে খাদ্য-সহায়তা না দিতে পারলে মানুষকে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হবে না। আর আটকাতে না পারলে জেলার আইনশৃঙ্খলারও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

উথলীতে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুকন্যা রোজার মৃত্যু