কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সিঙ্গাপুরে আরও এক মাস সার্কিট ব্রেকার
- আপলোড তারিখঃ
২২-০৪-২০২০
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসেবে দেশজুড়ে জারি সার্কিট ব্রেকার (লকডাউন) মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ডের পর সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি হেইসেন লুং মঙ্গলাবার (২১ এপ্রিল) এই ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর লি হেইসেন লুং জানান, ‘করোনা মোকাবিলায় সার্কিট ব্রেকার (লকডাউন) আগামী ১ জুন পর্যন্ত জারি থাকবে। সার্কিট ব্রেকারের (লকডাউন) আওতায় দেশের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৪ মে পর্যন্ত চলমান ব্যবস্থা আরো কঠোর অবস্থানে থাকবে।’
প্রথম দফায় সিঙ্গাপুরে ৭ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকার (লকডাউনের) ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় দফায় তা আরও চার সপ্তাহ বাড়ানো হলো। তবে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর করোনার বিস্তার রোধে সিঙ্গাপুরের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল গোটা বিশ্বে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় দেশটিতে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। আর এসব আক্রান্তের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি দেশটিতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিক। তারা বিভিন্ন জনবহুল গণরুমগুলোতে (ডরমেটরি) অবস্থান করছেন।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এখন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯ হাজার ১২৫। গত ১৫ মার্চ সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল মাত্র ২০০ জন। তখন ভাবা হচ্ছিল করোনা বোধহয় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু বিগত তিনদিনেই সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।
দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই প্রবাসী শ্রমিক। গতকাল পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখন করোনায় আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ২ হাজার ৯৬২। আজ আরও প্রায় এক হাজার একশ এগারো জন শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মাত্র বিশ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশি আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি হেইসেন শ্রমিকদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ সার্কিট ব্রেকারের (লকডাউন) মেয়াদ বাড়ানোর কারণে অনেকে হয়তো অখুশি হবেন। কিন্তু আমি আশা করবো আমাদের এই স্বল্পমেয়াদী কষ্ট, ভাইরাসটি নির্মূল করবে এবং আমাদের নিজের ও প্রিয়জনের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা দেবে।’
কমেন্ট বক্স