চুয়াডাঙ্গায় নিষেধাজ্ঞা মানছে আবার মানছে না
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৩-২০২০
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে হাট-বাজার ও গণজমায়েত বন্ধ ঘোষণা করাসহ জনসমাগম ও যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু তা মানছেন না অনেকেই। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা শহরের রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারে অবাধে চলাফেরা করছেন মানুষ। ছুটিতে বাড়ি ফিরে এলাকার পাড়ামহল্লাতে চলছে মানুষের জমায়েত, খোশগল্প ও আড্ডা।
চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রশাসনের সাথে নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। সারাদিনে যানবহন চলাচল কিছুটা কম হলেও বিকালের পর থেকে ক্রমাগত বাড়ছে। কেউবা বাইরে বেরোচ্ছেন কাজে আবার কেউবা বেরোচ্ছেন ঘুরতে। প্রথম দিন কিছুটা ঠিক থাকলেও একদিন পার না হতেই আবারও সেই আগের মতো অবস্থা। শহরে বেশিরভাগ মানুষ বেরোচ্ছে শুধু ঘুরতে।
এদিকে, কাঁচা বাজার সীমিত পরিসরে খোলা থাকলেও পণ্যের দাম কিছুটা কম। নিত্যপণ্যের দোকান মোটামুটি খোলা আছে। ওষুধের দোকান কয়েকটা বন্ধ, আবার কয়েকটা খোলা। শহরের খোলা দোকাগুলোর সামনে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিতে দেওয়া হয়েছে সাদা রঙের প্রলেপ। তবে তা মানছেন না অনেকেই। এ বিষয়ে দোকানের মালিকরাও নিচ্ছেন না কার্যকরি পদক্ষেপ। দায়সারা কাজে তাঁরা শুধু সাদা রঙের প্রলেপ দিয়েই নিশ্চুপ।
শনিবার সাপ্তাহিক পানের হাট হলেও বড় বাজার পানের হাটে ছিলো না অন্যসব সাধারন হাটবারের মতো ভিড়। বিক্রেতারা বলছেন অন্য দিনের তুলনায় দাম কমেছে কিছুটা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের পানের হাট অন্যসব হাটবারের মতো জমেনি। পান এমন একটি ফসল, যা সময়মত ভেঙে বাজারে আনতে হয়। দেরি করলে নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে। পান চাষিরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বাইরে থেকে আসছেন না পাইকারি ক্রেতা বা ব্যবসায়ীরা। দিন দিন কমছে পানের দামও। এ কারণে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজ প্রতিনিয়তই করা হচ্ছে। মাইকিং থেকে শুরু করে লিফলেট বিতরণসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী কাজ করছে। এখন প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে। যে দেশগুলো এটা মানেনি তাঁদের অবস্থা খুব একটা ভালো না।
জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, আপনি সচেতন হলে আপনার এবং সকলের ভালো। এই ভাইরাসটি ছড়ালে আপনার আমার সকলের ক্ষতি। বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আগে আমাদের উচিত সচেতন হওয়া। কখন কার থেকে কিভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে সেটা অজানা। তাই প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, সামাজিক দুরুত্ব বাজার রেখে চলতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থবিধি মেনে চলে যার যার ঘরে থাকায় ভালো। অপ্রয়োজনে বাইরো না বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে থেকে সুস্থ্য থাকতে হবে।
কমেন্ট বক্স