বাংলাদেশেও করোনার হানা, তিন রোগী শনাক্ত
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০৩-২০২০
ইং
মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান স্থগিত, আসছেন না মোদিসহ বিদেশি অতিথিরা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ। এদের মধ্যে দুজন ইতালিফেরত। এদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ তিনজন ছাড়াও আরও দুজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে রেখে লক্ষণ-উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তারা বর্তমানে ভালো আছেন। এ মুহূর্তেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রাস্তাঘাটে চলাফেরায় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। তবে সারা দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে উল্লেখ করেন আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা।
এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম এড়িয়ে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জনসমাগম হবে এমন অনুষ্ঠানগুলো আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুজিববর্ষ উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এতে ১৭ মার্চের প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিরা আসছেন না। গতকাল রোববার রাতে আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জনে। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৬০ হাজার ১৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বিশ্বব্যাপী ১০৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চীনের মূল ভূখন্ডেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৯৬ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৯৭ জনের। চীনের পর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৪ এবং মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৮৩ এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩৩ জনের। অপরদিকে, ইরানে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৮২৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১৪৫ জন। জাপানে নোঙর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। জার্মানিতে এই ভাইরাসে ৮শ জন আক্রান্ত হয়েছে। ফ্রান্সে ৯৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১৬ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছে ৪৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। স্পেনে আক্রান্ত ৫২৫ এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ৪৩৮, মৃত্যু ১৯। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৬৮ এবং মারা গেছে ১ জন, যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২০৯ মৃত্যু ২। ইরাকে আক্রান্ত ৫৪, মৃত্যু ৪। ভারতে ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর প্রাণহানি ঘটেনি।
এছাড়া সুইডেনে আক্রান্ত ১৬১, সিঙ্গাপুরে ১৩৮, নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ১২৮ এবং মৃত্যু ১, নরওয়েতে আক্রান্ত ১২৭, বেলজিয়ামে ১০৯, হংকংয়ে ১০৮, মালয়েশিয়ায় ৯৩, অস্ট্রিয়ায় ৮১, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত ৭৭, মৃত্যু ৩, বাহরাইনে ৮৫, কুয়েতে ৬১, কানাডায় ৬০, থাইল্যান্ডে ৫০ এবং মৃত্যু ১, তাইওয়ানে আক্রান্ত ৪৫ এবং মৃত্যু ১, গ্রিসে ৬৬, আমিরাতে ৪৫, আইসল্যান্ডে ৫০, সান মারিনোতে ২৬ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যু ১, ডেনমার্কে আক্রান্ত ২৭, লেবাননে ২৮, ইসরাইলে ২৫, চেক রিপাবলিকে ২৬, আয়ারল্যান্ডে ১৯, আলজেরিয়াতে ১৯, মিসরে ৪৮ এবং ভিয়েতনামে ১৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
অপরদিকে, ওমানে ১৬, ফিলিস্তিনে ১৯, মিসরে ১৫, ফিনল্যান্ডে ১৯, ব্রাজিলে ১৯, ইকুয়েডরে ১৪, পর্তুগালে ১৩, রাশিয়াতে ১৫, ক্রোয়েশিয়ায় ১২, কাতারে ১২, ম্যাকাউতে ১০, এস্তোনিয়ায় ১০, জর্জিয়ায় ১৩, রোমানিয়ায় ১৩, আর্জেন্টিনায় ৯, স্স্নোভেনিয়ায় ১২, আজারবাইজানে ৯, বেলারুশে ৬, মেক্সিকোতে ৭, পাকিস্তানে ৬, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ৬ এবং মৃত্যু ১, সৌদি আরবে ৭, চিলিতে ৭, পোল্যান্ডে ৬, স্স্নোভাকিয়ায় ৩, পেরু ৬, ইন্দোনেশিয়ায় ৪, নিউজিল্যান্ডে ৫, সেনেগালে ৪ ও হাঙ্গেরিতে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া লুক্সেমবার্গ ৩, উত্তর মেসিডোনিয়া ৩, বসনিয়া ৩, ডোমিনিক প্রজাতন্ত্র ২, মরক্কোত ২, আফগানিস্তান ৪, কম্বোডিয়া ২, বুলগেরিয়া ২, ক্যামেরুন ২, মালদ্বীপ ২ ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে আন্দোরা, আর্মেনিয়া, জর্ডান, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, মোনাকো, নেপাল, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, ভুটান, কোস্টারিকা, ভ্যাটিকান সিটি, জিব্রালটার, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং টোগোতে একজন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান স্থগিত, মোদিসহ আসছেন না বিদেশি অতিথিরা:
করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম এড়িয়ে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জনসমাগম হবে এমন অনুষ্ঠানগুলো আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুজিব বর্ষ উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এতে ১৭ মার্চের প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিরা আসছেন না। গতকাল রোববার রাতে আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব বলেন, ‘বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ১৭ মার্চ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে দেশে করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানটি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধু জনগণের কষ্ট লাঘব করতে চেয়েছেন তাই জনকল্যাণে জনগণের কষ্ট পরিহার করতে এবং জনগণের স্বাস্থ্যের প্রতি বিবেচনায় রেখে সামগ্রিক প্রোগ্রামটি পুনর্বিন্যাস করা হয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে জনসমাগম পরিহার করা হবে। তবে ১৭ মার্চ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলবে। যার আওতায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা এবং পরবর্তীতে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে দোয়া মাহফিল চলবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমিত আকারে অনুষ্ঠান চলবে। স্মারক ডাকটিকিট মুদ্রা এবং প্রকাশনা প্রকাশ করা হবে। তবে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠানটি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। কবে নাগাদ প্যারেড স্কয়ারের প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠানটি হবে তার পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিদেশি অতিথিদের আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়েছে।’ রোববার রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে ৩ জন করোনায় আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সন্ধ্যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটি এবং জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স