মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রাতে সন্ত্রাসী দিনে কৃষিজীবী, এদের সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিন

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৩-২০২০ ইং
রাতে সন্ত্রাসী দিনে কৃষিজীবী, এদের সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিন
আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত ডিআইজি নাহিদুল ইসলাম তানভির সোহেল/কাজী সোহাগ: আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের আয়োজনে মুন্সিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের পানের হাটে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম বিপিএম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেহালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসানুজ্জামান হান্নান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এ প্রতিপাদ্যে বিশ্বাস রেখে সাধারণ জনগণ এখন পুলিশের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ এখন জনগণের দোরগোড়ায়। বর্তমানে কিছু কুচক্রী মহল মুন্সিগঞ্জ এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে রাতের আঁধারে ডাকাতির মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ড ঘটছে। ফলে সাধারণ জনগণের লোকসানের পাশাপাশি জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে। এই অঞ্চল গরুর ব্যবসা এবং গরু পালনে অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কয়েক দিন পূর্বে মুন্সিগঞ্জের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৩ স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ডাকাত সদস্যরা গরুর ব্যাপারীদের ওপর চড়াও হয়ে তাঁদের নগদ টাকা নিয়ে গেছে। ডাকাত সদস্যদের আটক করতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। মুন্সিগঞ্জের পার্শ্ববর্তী এলাকা আপনাদের, আপনারাই জানের কারা এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে।’ এ ছাড়াও আলমডাঙ্গা থানা ও মুন্সিগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সারা রাত-দিন পরিশ্রম করে টহল দিলেন, ডাকাতি রোধ করতে পারলেন না, এটা কোনো কাজ হতে পারে না। বিজ্ঞানে কাজের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, ‘চাপ ও তাপ প্রয়োগে যদি পদার্থ স্থানচ্যুত হয়, তাহলে বিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে কাজ বলে। আপনি সারা রাত টহল করলেন, তারপরও দুইটা ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেল, এটা কোনো কাজ হতে পারে না। ডাকাতকে ধরতে হবে। ডাকাতকে কনফার্ম ডিলিট করে দিতে হবে।’ খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ক্রাইম) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম বিপিএম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষ গরু পালনে সারা দেশে ব্যাপক সারা জাগিয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষ গরু পালনের বেশ উদ্যোগী, এটা বাংলাদেশের সবাই জানে। চোর-ডাকাত, ছিনতাইকারী, ধর্ষক ভিন্ন জগতের কেউ না। তাদেরও আপনার-আমার মতো পরিবার আছে, বন্ধু-বান্ধব আছে। যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে, তারা আমাদের সমাজেরই লোক। একসময় সন্ত্রাসীদের অভায়ারণ্য ছিল চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর-কুষ্টিয়া অঞ্চল। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা অন্যতম। অনেক চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছে এখানে, তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল। কেউ কেউ পরবর্তীতে ডাকাতে পরিণত হয়েছে। তারাই এ কর্মকাণ্ড করছে। তাদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক আছে, কিন্তু আপনি জানেনও না তাদের রাতের রূপ, যা খুবই ভয়ঙ্কর। রাতে সন্ত্রাসী দিনে কৃষিজীবী, এদের সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিন। পুলিশের ওপর আমার চরম নির্দেশ হলো তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখবেন। তথ্য দিতে গিয়ে কেউ যেন জীবননাশের হুমকি বা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। তথ্য দিতে গিয়ে কেউ যদি ভোগান্তিতে পড়ে, তাহলে কেউ তথ্য দিতে এগিয়ে আসবে না। সাধারণ নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে, জনগণ তথ্য দিতে বাধ্য, তথ্য না দেওয়ার কারণে অপরাধীরা বারবার অপরাধ করে যায়। পুলিশের কাছে কোনো জাদুটোনা নেই। পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে।’ মতবিনিময় সভাটি পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) শামীমুর রহমান।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী