আ.লীগের দুই গ্রুপের অস্ত্রের মহড়া, আটক ৪
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০২-২০২০
ইং
মেহেরপুর পিরোজপুরে প্রতিমন্ত্রীর সংবর্ধনার প্রস্তুতি সভায় সংঘর্ষ, আহত ২
প্রতিবেদক, বারাদী ও আমঝুপি:
মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাস আহত হন। পরে মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় পুলিশের ধাওয়ায় বন্যা নামের আরও এক মেয়ে আহত হয়। আহত বন্যাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনকে পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়ে গতকাল এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয় এ সভায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মীকে ডাকা না হলে বাধে বিপত্তি। সভা থেকে বাদপড়া নেতা-কর্মীরা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে এবং প্রস্তুতি সভার আয়োজনকারীদের সঙ্গে সভা থেকে বাদপড়া নেতা-কর্মীদের বাকবিতণ্ডা বাধে। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রুপ নেয়। পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সভার দুদিকে দুইপক্ষ অবস্থান নিলে পরিস্থিতি গরম হয়ে উঠে। বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করে থানায় নেয়। আটকৃতরা হলেন পিরোজপুর গ্রামের দবির বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৪), আজহার বিশ্বাসের ছেলে লালন বিশ্বাস (২৪), মৃত নেদু বিশ্বাসের ছেলে বাবলু বিশ্বাস (৪২), মাদার বিশ্বাসের ছেলে সোহেল বিশ্বাস (২৭)।
এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাস জানান, ‘প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি সভা করছিলাম। আমাকে জুয়েল, জিয়া, লালন, সাধনসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতা আমার উপর চড়াও হয় এবং অতর্কিতভাবে মারধর করে।’
মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাবলু বিশ্বাস জানান, ‘দুই গ্রুপের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। তারই জের ধরে সোমবারের প্রস্তুতি সভায় নিজেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।’
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খান বলেন, ‘মারামারির ঘটনা জানতে পেরে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌছে দুইপক্ষকেই ছত্রভঙ্গ করে দিই। সেই সঙ্গে চারজনকে আটক করি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে পরবর্তীতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’
কমেন্ট বক্স