মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গ্রামীণ সড়কগুলো সবজিচাষিদের দখলে

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০২-২০২০ ইং
গ্রামীণ সড়কগুলো সবজিচাষিদের দখলে
জাহিদুল ইসলাম মামুন: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে সবজি ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়কে বীজ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ডাঁটাশাক শুকানো হচ্ছে। মৌসুমের শুরু থেকে যতই দিন যাচ্ছে ততই রাস্তাগুলো এলাকার কৃষকদের দখলে চলে যাচ্ছে। সড়কের ওপর ডাঁটাশাক শুকানোর ফলে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার একটি পৌরসভাসহ আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে সরেজমিন দেখা গেছে, গ্রামীণ সড়কের বেশির ভাগ স্থানেই কৃষকরা বীজ উৎপাদনের জন্য লালশাকের ডাঁটা রাস্তায় ওপর শুকাচ্ছে। রাস্তাজুড়ে লালশাকের ডাঁটা শুকানোর কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, করিমন, নসিমন চলাচল করতে গিয়ে চালকদের পাশাপাশি যাত্রীসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার বাঁকা-মিনাজপুর-মোক্তারপুর-কুলতলা-আন্দুলবাড়ীয়া-বাজদিয়া-শাহাপুর এলাকার বেশির ভাগ সড়কই সবজি চাষিদের দখলে থাকার কারণে ওই সব এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে পিয়ারাতলা-আলীপুর-মনোহরপুর-খয়েরহুদা-কাশিপুর-দেহাটি-সন্তোষপুর-উথলী-আন্দুলবাড়ীয়া হারদা চাঁদপুর এলাকার শত শত মাইল সড়কের ওপর ক্ষেত থেকে সদ্য তুলে আনা তাজা সবজি লালশাক থেকে বীজ আলাদা করতে শাকের ডাঁটা গাছ শুকানো হচ্ছে। সড়কের ওপর প্রতিনিয়ত সবজি শুকানোর সড়কগুলো বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে এসব রাস্তা দিয়ে কোমলমতি ছাত্রছাত্রী ও চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে চরম দুর্গতির মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জীবননগর বাজারের মিশুক চালক আখের আলী বলেন, সড়কের ওপর শাকের কাঁচা ডাঁটা শুকানোর কারণে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কাঁচা শাকের ওপর দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন যাতায়াতের ফলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে গাড়ি একটু জোরে চালালেই কিংবা ব্রেক ধরলেই গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন ময়েন বলেন, বাঁকা ব্রিকস ফিল্ড থেকে আন্দুলবাড়ীয়া পর্যন্ত মাইলের পর মাইল রাস্তায় শাক শুকানোর ফলে চলাচল করা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। আমি কয়েক দিন আগে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি। প্রতি বছরই সড়কগুলোতে এমন অবস্থা দেখা গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মুধ শেখ বলেন, এলাকার কৃষকরা রাস্তার ওপর লালশাক শুকানোর ফলে এখন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত দায় হয়ে পড়েছে। শাকের ডাঁটা মেলে দেয়া রাস্তা দিয়ে একটু জোরে গাড়ি চালালেই অবধারিত বিপদ। অন্য দিকে বীজ উৎপাদন করতে শাকের ডাঁটা শুকানোর পর তা আবার রাস্তার ওপরেই ঝাড়া-মাড়াইয়ের কাজ করার কারণে ধুলাবালুতে চলাচল করা ঝুঁকি হয়ে পড়ে। অনেক সময় ধুলা-বালু চোখে-মুখে প্রবেশ করে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। জীবননগর হাসপাতালের ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সড়কের ওপর সবজি বিছিয়ে শুকানোর কারণে চলাচল করা জীবনের জন্য ঝুঁকি। অন্য দিকে তা রাস্তর ওপর ঝাঁড়া-মাড়াইয়ের কারণে জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ততম গ্রামীণ সড়কগুলোতে শাকের ডাঁটা বিছিয়ে শুকানোর ফলে জনজীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত বছর আমি সরেজমিন রাস্তা থেকে সবজি অপসারণের জন্য কাজ করেছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তা থেকে ডাঁটাশাক অপসারণ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী