বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ ও মহান ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় দিন আজ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বাংলা ভাষাভাষীদের গৌরব ও ত্যাগের দিন মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকার রাজপথে রক্ত ঢেলে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল বাঙালিরা। তাদের সেই আত্মত্যাগ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি। দিবসটি উদ্যাপন করতে রাত ১২টার পর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢল নামে বিভিন্ন বয়সী অগণিত মানুষের। ফুলের গুচ্ছ, স্তবক বা মালা হাতে তাদের কণ্ঠে বাজে মর্মস্পর্শী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কী ভুলিতে পারি’। কৃতজ্ঞ দেশবাসী বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবে আজ থেকে ৬৮ বছর আগের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতির প্রতি। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ১৯৫২ সালে। ঢাকার রাজপথে সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিউরসহ বীর সন্তানরা। দিনটি জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সারাবিশ্বে পালন করা হবে বলে বাংলাভাষীসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগণ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। দিবসটি উপলক্ষে দেয়া পৃথক বাণীতে মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি পৃথক বাণীতে ভাষাশহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরসহ সারা দেশে স্কুল-কলেজে, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের জনগণ। পাড়ায়-মহল্লায় শিশু-কিশোরদের নিজ হাতে গড়া শহীদ মিনারও আজ সেজে উঠবে নতুন প্রজন্মের ফুলেল শ্রদ্ধায়। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ’৫২-এর একুশে ফেরুয়ারি ছিলো ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠীর প্রভুসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।
‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। রাত ১২টা ১টি মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ছয় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা শহরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য আরও ১০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছে। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রথম প্রহরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন:

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শুরু হয়। প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। এরপর বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের পর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। এরপর ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ, জেলা পরিষদের পক্ষে পরিষদের সদস্যবৃন্দ,

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষে পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট, আওয়ামী কৃষক লীগ, যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, ছাত্রলীগ ও এর অঙ্গসংগঠন, জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড,

বাংলাদেশ জাতীয় দল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যদিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান শরীফ, বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গসংগঠন, চুয়াডাঙ্গা জেলা জাকের পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু) জাসদ, স্বাধীনতার পক্ষের সব রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গসংগঠন, জেলা আইনজীবী সমিতি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, ডায়াবেটিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজ, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, স্বাধীনতা ডিপ্লোমা চিকিৎসক পরিষদ চুয়াডাঙ্গা, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ডক্টরস চুয়াডাঙ্গা, উপপরিচালক জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস, সাহিত্য পরিষদ, জেলা স্কাউটস, বাংলাদেশ শিক্ষক-অভিভাবক ফোরাম চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রেতা সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, চেম্বার অব কমার্স চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, উদীচী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চুয়াডাঙ্গা, এলজিইডি চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ।

এদিকে, একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে চুয়াডাঙ্গার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক, সাহিত্য সম্পাদক এম এ মামুন, সহসম্পাদক সুমন পারভেজ, ডেস্ক ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ, নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভী, সম্পাদনা সহযোগী কবি রিগ্যান এসক্যান্দার, শ্যামল সাবরিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক রুদ্র রাসেল, অফিস সহকারী তৌহিদুর রহমান তপুসহ সমীকরণ পরিবার।
চুয়াডাঙ্গায় যেভাবে পালিত হবে দিনটি:
২১ শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে শহরের প্রধান প্রধান সড়কসমূহে আলপনা ও বাংলা বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দ্বারা সাজানো হয়েছে। আজ সারা দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় রাখা হবে। সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রভাতফেরি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সকাল ৯টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। সকাল ১০টা থেকে সরকারি কলেজ মঞ্চে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১০টা থেকে একই মঞ্চে শিশুদের কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে জেলা শিশু একাডেমি। বাদ জোহর বা সুবিধামতো সময়ে জেলার সব মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে। সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্দেশ্যে সরকারি আয়োজনের বাইরেও জেলার বিভিন্ন আধাসরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্যোগে প্রভাতফেরি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রতিযোগিতারও আয়োজন রয়েছে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি-আধাসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠানসমূহে আলোকসজ্জ্বা করা হয়েছে গতকাল দিনগত রাত থেকেই।
আলমডাঙ্গা:

মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক পৃথকভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করাসহ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রাত ১২ টা ১মিনিটে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এ পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। এ ছাড়া চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. লিটন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি হুমায়ন কবির, ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, যুবলীগের আহবায়ক আহসান, সাজ্জাদুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ।
জীবননগর:

জীবননগরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। জীবননগর উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জীবননগর থানা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জীবননগর প্রেসক্লাব, জীবননগর সাংবাদিক সমিতি, জীবননগর পৌরসভা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আ. সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু, জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী নাসির উদ্দিন, জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম আর বাবু, জাহিদ বাবু, জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আতিয়ার, চাষী রমজান প্রমুখ।
ভালাইপুর:

ভালাইপুর সাংবাদিক ইউনিটের পক্ষ থেকে শহীদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভালাইপুর সাংবাদিক ইউনিটের সভাপতি সাইদুর রহমান, সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম সুমন, সাধারন সম্পাদক শারিউর রহমান লন্টু, ইউনিটের উপদেষ্টা আলমগীর কবীর শিপলু প্রমুখ।
মেহেরপুর:

আজ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে মেহেরপুর শহরের শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, জেলা জজশীপের পক্ষে জেলা জজ মো. আব্দুস সালাম, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী, জেলা পরিষদের পক্ষে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম রসুল, সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষে অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, পৌরসভার পক্ষে মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, আব্দুল হালিম ও যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহীম শাহীন শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এ ছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জেলা কৃষক লীগ, জেলা যুবলীগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জেলা ছাত্রলীগসহ একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ ছাড়াও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষে সকালে প্রভাতফেরী, দিনব্যাপী আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, একুশের গান, কবিতা আবৃতি এবং চিত্রাঙ্কন ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
মুজিবনগর:
মুজিবনগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গত রাতের প্রথম প্রহর ১২.০১ মিনিটে মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ শহীদ বেদীতে রাষ্টের পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উসমান গনি। পরে মুজিবনগর থানার পক্ষে ওসি আব্দুল হাশেম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগের পক্ষে সভাপতি কামরুল হাসান চাঁদু, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগ, উপজেলা তাঁতীলীগ, উপজেলা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। এ সময় বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন, মোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিকুল বারী বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।